পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( ১০ ম পর্ব) উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ। অনুপমার সংগ্রাম: দারিদ্র্য, অসহায়তা আর মানবিকতার আলো – বাংলা গল্প

ছবি
মেটা ডিসক্রিপশন (Meta Description): একজন মায়ের অসহায়তা, সন্তানের জ্বরে রাতের অন্ধকার, আর পাশের বাসার রুবি আপার মানবিক সাহায্য—বাংলা ছোটগল্পে উঠে এসেছে জীবনের টানাপোড়েন ও আশা।   নিষিদ্ধ স্বপ্ন : দশম পর্ব অনুপমা বাচ্চার গায়ে রেখে চমকে উঠল। গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। এখন কি করবে?  িিনিজের কাছে সামান্য ওষুধ কেনার টাকা নেই, ডাক্তার দেখানো তো পরের  কথা।  অনুপমা নিজের মাকে ডাকল। মা এলে মায়ের দিকে তাকিয়ে সে অসহায় চোখে বলল, — “মা, এখন কী করব?” মা বললেন, "জ্বরই তো। তেমন কিছু না। মাথায় জল দিয়ে ধুয়ে দে। শরীরে মুছে দে। জ্বর নেমে যাবে। " অনুপমা তাই করল। তারপর জ্বর নামছে না। অনুপমা এবার ভেঙ্গে পড়ছে। "মা জ্বর তো কমছে না, যদি  কিছু হয়ে যায়?" বৃদ্ধা মা নিশ্চুপ হয়ে রইলেন। সংসারের টানাপোড়েনে ওষুধ কেনা বা ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য তাদের নেই। অনুপমার বুকের ভেতর হাহাকার উঠল। বাইরে অন্ধকার আকাশে বৃষ্টি নামছে টুপটাপ, আর ভেতরে শিশুর শ্বাসকষ্ট যেন ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অনুপমা দৌড়ে পাশের আলমারিতে গিয়ে পুরোনো শাড়ির ভাঁজে কিছু টাকা খুঁজতে লাগল, কিন্তু  কিছুই পেল না।  বুক চেপে ধরে সে মনে মনে ...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন (৯ম পর্ব) আশিষ কৃষ্ণমুখ। অনুপমার স্মৃতিচারণা | হারানো ভালোবাসা ও একাকীত্বের গল্প

ছবি
 নিষিদ্ধ স্বপ্ন।  নবম পর্ব অনুপমা মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। চোখের কোণে অশ্রু ঝরছিল, তবুও সেই হাসির ভেতরে লুকানো ছিল এক অদম্য আশা। রাত গভীর। জানালা দিয়ে হালকা বাতাস বইছে। বিছানায় শুয়ে চোখ মুদতেই অনুপমার মনে ভেসে উঠল স্বামীর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর ছবি। সেই দিনগুলো ছিল হাসি-আনন্দে ভরা। সংসারে অভাব ছিল না, বরং ছোট ছোট স্বপ্নগুলো যেন একে একে সত্যি হচ্ছিল। অফিস থেকে ফেরার পর স্বামী প্রায়ই হেসে বলতেন— — “চল আজ বাইরে খেয়ে আসি, রান্না করতে হবে না।” আর অনুপমা অবাক চোখে তাকিয়ে হেসে ফেলতেন। সন্ধ্যার পর তারা দু’জন হেঁটে বেড়াতেন পাশের মাঠে, আকাশভরা তারা দেখে কত স্বপ্ন বুনতেন একসাথে। অনুপমা মনে করল সেই প্রথম শাড়ি, যা স্বামী উপহার দিয়েছিলেন জন্মদিনে। শাড়ির ভাঁজে লুকানো ছিল ভালোবাসার চিঠি। সেই মুহূর্তে তার বুকের ভেতর যে আনন্দের ঢেউ উঠেছিল, আজও তা ভুলতে পারেনি। হঠাৎই স্মৃতির মোহ ভেঙে বুকটা হু হু করে উঠল। পাশে হাত বাড়িয়ে দেখল—খালি জায়গা। স্বামী নেই, কেবল নিস্তব্ধতা। ঠোঁটের কোণে যে হাসি ফুটেছিল, তা মিলিয়ে গিয়ে চোখ ভিজে উঠল। মনে হলো, এই সাতটি বছর কীভাবে কাটবে! একদিকে জীবনের অভাব আর দুঃখ, অ...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন (অষ্টম পর্ব) উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণুখ। অনুপমার সংগ্রামী জীবন ও মাতৃত্বের শক্তি

ছবি
  Meta Description: ঢাকার ছোট্ট স্কুলে শিক্ষক অনুপমার টিকে থাকার লড়াই, সংসারের অভাব, সন্তানের ক্ষুধা ও মাতৃত্বের শক্তির কাহিনি পড়ুন অষ্টম পর্বে। নিষিদ্ধ স্বপ্ন। অষ্টম পর্ব অনুপমা ঢাকা শহরের একটি ছোট্ট স্কুলে শিক্ষকতা করে । মাসে সামান্য বেতন পায়, যা দিয়ে সংসারের খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব। তবু ওই সামান্য টাকাতেই সে চেষ্টা করেন সংসারটাকে টিকিয়ে রাখতে। এছাড়া আর উপায়ও নেই। সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার আগে সে ভোরে উঠে রান্নাঘরে যায়। হাঁড়িতে উঁকি দিয়ে দেখে—আজকের ভাতের চালটুকুই কেবল আছে, ডাল বা সবজি নেই। মনের ভেতর হাহাকার জেগে ওঠে। অনুপমার মা কিছু বলতে চাইলেও অনুপমা চুপ করে থাকেন, কারণ জানেন বললেও তো জোগাড় হবে না। পড়ানো শেষে মধ্যদুপুরে তার স্কুল ছুটি হয়। স্কুল থেকে বেরিয়ে সামনে ছোট্ট পার্কের বেঞ্চিতে কিছুক্ষণ বসল। ছোট্ট হলেও সবুজের কমতি নেই পার্কটিতে। মাথার উপর বড়ো বড়ো গাছ। সামনে পুকুর। কিছুটা নির্জন।  অনুপমা প্রায়ই এখানে বসে নিজের মনের কষ্টগুলো প্রকৃতির সাথে যেন বিনিময় করে। কিন্তু আজ তার কোনো কিছুতেই মন নেই।  তার ঘাড়ের ডানপাশটা যেন ছিড়ে যাচ্ছে। মাথায় এক বোঝা দুশ্চিন্তা। মাস মাত্র দ্বিতী...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন (সপ্তম পর্ব) উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ। সৈকতের নতুন যাত্রা শুরু | জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

ছবি
✅ Meta Description (মেটা বর্ণনা): সৈকতের ভাঙা ল্যাপটপ থেকে শুরু হয় নতুন জীবনের যাত্রা। আরিফের অনুপ্রেরণা, মায়ের ভালোবাসা আর নিজের দৃঢ় সংকল্প তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পড়ুন অনুপ্রেরণামূলক সপ্তম পর্ব। নিষিদ্ধ স্বপ্ন।  সপ্তম পর্ব সকালের আলো ফুটতেই সৈকত নতুন উদ্যমে জেগে উঠল। সারারাত তার ভেতরে এক অদ্ভুত আলোড়ন কাজ করেছে। ছোট্ট খাতা থেকে শুরু করা যাত্রা যেন তাকে আবার বাঁচিয়ে তুলছে। আরিফের দেওয়া হিসাবের খাতা খুলে রেখে সে ল্যাপটপ চালু করার চেষ্টা করল। বহু চেষ্টার পরও কাজ হলো না। ল্যাপটপ যে পুরোটাই অচল এ কথা সে বার বার ভুল করছে। সৈকত কিছুক্ষণ ভেবে ঠিক করল—একটু মেরামত করাতে হবে। হয়তো নতুনের মতো শক্তিশালী হবে না, কিন্তু শুরু করার জন্য যথেষ্ট। এক সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ল্যাপটপ জমা দিল। দোকানদার অনেক চেষ্টার পর বলল,—“পুরোনো মডেল, এটা আর উঠবে না। পুরোই ডেথ। সৈকত দীর্ঘশ্বাস ফেলল, আরিফের নিজের ল্যাপটপটি চেয়ে নিল।  দুপুরের সৈকত তার কাজ শেষ করল। আরিফের চোখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। —“বাহ! তুই তো দারুণ কাজ করেছিস। আমি ভেবেছিলাম কয়েকদিন লেগে যাবে।” সৈকত মুচকি হেসে বলল, —“এটা শুধু কাজ নয়, আ...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( ৬ষ্ঠ পর্ব) |বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ। নিজেকে খুঁজে পাওয়া সৈকতের গল্প

ছবি
 নিষিদ্ধ স্বপ্ন: ষষ্ঠ পর্ব ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই সৈকত জানালার পাশে দাঁড়াল। আকাশটা অদ্ভুত স্বচ্ছ, যেন নতুন দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মনে মনে বলল, —“আজ থেকেই শুরু করতে হবে। যত ছোটই হোক, একটা পদক্ষেপ দরকার।” তারপর মনে পড়ল তার কাছে চল্লিশ লক্ষ টাকা রয়েছে। চাইলেই বড় কিছু শুরু করতে পারে।  কিন্তু কি করবে? ব্যবসা না জেনে শুনে ব্যবসায় নেমে ব্যর্থ হতে হয়। পুরোনো ল্যাপটপটা বের করে ঝেড়ে মুছে টেবিলে রাখল। বহুদিন আগের। কিন্তু তার মনেই ছিল না সেটা এখন আর চালু হয় না। অনেক দিন আগেই তার ব্যাটারী ডাউনসহ নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওটাকে বস্তুা বন্দী করে রাখা হয়েছিল। ভাবনায় মসগুল হয়ে পড়ল। কম্পিউটার জানা ছাড়া আর কিছুই জানে না সে।   সফটওয়্যারের কিছু আইকন—ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট পয়েন্টের সাথে তার পুরোনো পরিচিতি।  কিন্তু সৈকতের চোখে একরাশ দৃঢ়তা। —“এই হাতিয়ার দিয়েই আমি আবার দাঁড়াব।” সে অসীমের ফেলে যাওয়া ব্যগটির দিকে গেল। জ্বলজ্বল করা চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে গেল পাশের বাজারের দিকে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলল। —“ভাই, আপনাদের দোকানের হিসাব বা ডেটা সাজানোর দরকার হলে আমি সাহায্য করতে প...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন (৫ম পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ। চাকরি হারানোর পর নতুন জীবনের শুরু | অনুপ্রেরণামূলক গল্প

ছবি
নিষিদ্ধ স্বপ্ন: পঞ্চম পর্ব অফিস থেকে বেরিয়ে আসার পর সৈকতের চোখে এক অদ্ভুত ঝলক। বুকের ভেতর হাহাকার ছিল, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ছিল দৃঢ়তা। রাস্তার দিকে হাঁটতে হাঁটতে সে নিজেকে বলল— “এখন ভেঙে পড়লে শেষ। ভয় পেলে শেষ। আমাকে নতুন পথ খুঁজতেই হবে।” অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চায়ের দোকানদার রহিম চাচা ডাক দিলেন— —“কী সৈকত ভাই , আজ এত তাড়াতাড়ি?” সৈকত হালকা হাসল। বলল, —“চাকরি গেছে চাচা। তাই মনে হলো আর ভেতরে বসে থেকে লাভ নেই।” চাচা অবাক হয়ে তাকালেন। —“এই অফিসে আপনি তো অনেক বছর ধরে আছেন! হঠাৎ করে চাকরি গেল কেমন করে?” সৈকত শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল। —“কিছু বিষয় হয়তো বোঝানো যায় না চাচা। শুধু এটুকুই বলি—আমার মনে হচ্ছে এখন আমার অন্য কিছু করার সময় এসেছে।” চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে সৈকত সোজা গেল মসজিদের দিকে। নামাজ শেষে সিজদায় মাথা ঠেকিয়ে প্রার্থনা করল— “হে আল্লাহ, তুমি জানো আমি নির্দোষ। তুমি পথ দেখাও, হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করো।” মসজিদ থেকে বেরিয়েই তার মাথায় একটি চিন্তা এলো। বছরের পর বছর ধরে সে কম্পিউটার আর ডেটা-এন্ট্রির কাজ করেছে। অসংখ্য সফটওয়্যার শিখেছে, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট—সবই তার হাতের কাজ। “আমি কে...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন (৪র্থ পর্ব)।বাংলা উপন্যাস অফিস জীবনের সংগ্রাম | সৈকতের চাকরি হারানোর গল্প

ছবি
  নিষিদ্ধ স্বপ্ন :  চতুর্থ পর্ব এক সপ্তাহ পর অবশেষে অফিসে ফিরল সৈকত। অনেক ভেবেছে, অনেক ভয় করেছে—তবু আজ মনে হচ্ছে, হয়তো অযথাই সে আতঙ্কে ভুগছিল। সাইদুল হক  হয়তো তার মুখ ভুলে গেছে, কিংবা হাজার মানুষের ভিড়ে গুলিয়ে ফেলছে। আসলে সৈকত নিজেও তো প্রতিদিন অফিসে কারও চেহারা অন্য কারও সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। মনে মনে সাহস সঞ্চার করল সে— "চিনলেও সমস্যা নেই। আমি ধমকে উল্টো ওকেই ফাঁসিয়ে দেব। ওর টাকা  আমি চুরি করেছি? সে ফেলে গেল কেন?" কিন্তু দরজার ভেতর ঢুকতেই যেন বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। নিজের টেবিল-চেয়ারে বসে আছে অচেনা এক যুবক। কম্পিউটারে টাইপ করছে একাগ্র ভঙ্গিতে। সৈকত ঠোঁট শক্ত করে কাছে গিয়ে দাঁড়াল। — “তুমি কে? এখানে বসে আছো?" ছেলেটি মুখ তুলে  বলল, — “আমি নতুন জয়েন করেছি।” — “নতুন জয়েন? তাহলে আমি বসব কোথায়?” ছেলেটি কিছু বলল না। শুধু কাঁধ ঝাঁকাল। সৈকত বুঝল, এই প্রশ্ন তার জন্য নয়। সরাসরি বসের কক্ষে ঢুকে গেল সে। বস কাগজপত্রে চোখ গুঁজে ছিলেন। সৈকত ঢুকতেই মাথা তুললেন। — “কী ব্যাপার সৈকত? হঠাৎ এভাবে আসা?” সৈকত গলা শক্ত করে বলল, — “স্যার, আমার চেয়ারে নতুন লোক বসে আছে আমি বসব ক...