পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নিষিদ্ধ স্বপ্ন (৩য় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। এই পর্বে দেখা যায় সৈকত হঠাৎ পাওয়া বিপুল টাকার ভয়ে আতঙ্কিত

ছবি
  নিষিদ্ধ স্বপ্ন :  তৃতীয় পর্ব দু’দিন ধরে সৈকত বাসায়। কিন্তু ছুটির আনন্দ কোথায়! ভেতরে ভেতরে এক অজানা ভয় তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সারাক্ষণ মনে হয়— বাইরে বের হলে যদি হঠাৎ সাইদুল হকের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়! সে যদি এক ঝলকেই তাকে চিনে ফেলে! পরক্ষণেই নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে সৈকত— "না, না… হঠাৎ দেখা মানুষকে কে-ই বা মনে রাখে? মানুষের ভিড়ে এক মুহূর্তের জন্য পাশের সীটে বসা— সেটা কি কারও মনের ভেতর এত গভীরভাবে থেকে যায়? নিশ্চয়ই না।" তবুও তার বুকের মধ্যকার  ভীতি কাটে না। ঘরে বসেই সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয় সে। মাকে ডাক্তার দেখানোর প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সৈকতের কেবল মনে হয় সাইদুল হক  তার চোখে সৈকতের ছবি এঁকে  তন্নতন্ন করে খুঁজছে। সাথে পুলিশ। বুকের ভেতর মুছরে উঠে। কখনো কখনো মনে হয় সে নিজেই অসীমকে খুঁজে বের করে তার টাকা তাকে বুঝিয়ে দিয়ে শান্তি পায়। তারপর পরই সে আবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ে। সৈকত মাকে মিথ্যে বলেছিল। সে অফিস থেকে কোনো ছুটি নেয়নি। জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবে— "চাকরি চলে গেলেও কী আসে যায়! আমি এখন চল্লিশ লক্ষ টাকার মালিক। সারাজীবনের কষ...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( দ্বিতীয় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। ঢাকার সকাল ও রহস্যময় ব্যাগ। |

ছবি
  দ্বিতীয় অধ্যায় ঢাকার সকালটা প্রতিদিনের মতোই অস্থিরতায় ভরা। রাস্তায় যানজট, হর্নের ঝনঝনানি, মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য ঘূর্ণিপাক। সেই ভিড়ের মাঝেই আজ বাসে উঠেছে সৈকত। আজকের যাত্রায় তার সীট পড়ল এক অপরিচিত লোকের পাশে। পরনে দামী পোশাক চালচলনে অতিরিক্ত মার্জিত আবহ । লোকটির মুখে একরকম গম্ভীর উদাসীনতা। পাশে রাখা আছে একটি চামড়ার ব্যাগ। সৈকত ভেবে নিল হয়তো ব্যবসায়ী হবে কিংবা বড় কোনো অফিসের কর্তা। পুরো পথটাতেই দুজনের মধ্যে কোনো কথা হলো না। কেবল মাঝে মাঝে লোকটির ব্যাগের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল সৈকতের। তবে দৃষ্টি ফিরিয়ে সে নিজেকে সামলে নিল—অপরের জিনিসে কৌতূহল দেখানো তার অভ্যাস নয়। বাস শাহবাগে এসে থামল। ভিড়ের চাপে লোকটি দ্রুত নেমে গেল। কিছুক্ষণ পরেই সৈকত টের পেল—ব্যাগটা ঠিক সেখানেই পড়ে আছে। এক মুহূর্তের জন্য তার বুক কেঁপে উঠল। ব্যাগটা হাতে নিয়ে প্রথমেই চেষ্টা করল লোকটিকে খুঁজতে। পুরো বাসের ভেতর চোখ বোলাল, কিন্তু কোথাও দেখা গেল না। জানালা দিয়ে তাকিয়েও বুঝল—অগণিত মানুষের স্রোতে লোকটিকে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। অস্থির হয়ে ব্যাগটা কোলে নিয়ে বসে রইল সৈকত। কয়েক সেকেন্ড দ্বিধা কাটিয়ে যখন চে...
ছবি
      স্বপ্নের ঠিকানা সিনেমায় সালমান ও জাহানারা ভূইয়া            ছবির উৎস : ফেইসবুক  বাংলা চলচিত্রে জাহানারা ভূইয়া ছিলেন অন্যতম প্রতিভাবান গুণী শিল্পী। ৯০ দশকের চলচ্চিত্রে মায়ের চরিত্রে তার উপস্থিতি বেশ উপভোগ্য। অমর নায়ক সালমান শাহ'র মায়ের চরিত্রও অভিনয় করতে দেখা গেছে ' স্বপ্নের ঠিকানা ও শাশুড়ির চরিত্রে ' জীবন সংসার সিনেমায়।  — তিনি একজন সুঅভিনেত্রী নয়, একাধারে গীতিকার, নির্মাতা ও প্রযোজক। শিল্পজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো: তিনি চলচ্চিত্রে গীতিকার হিসেবে পদার্পণ করেন, প্রথম গান লেখেন চলচ্চিত্র ‘ নিমাই সন্ন্যাসী’-এ । পরবর্তীতে অভিনয়েও নাম লেখান; আশির দশকের ‘সৎ মা’ ছবির মাধ্যমে পরিচিতি পান চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে । তার অভিনয় ও গীতিকর্মে পরবর্তী বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিলো, প্রায় প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেছেন । পরিচালনার দিকেও সক্রিয় ছিলেন—তার একটি উল্লেখযোগ্য পরিচালিত চলচ্চিত্র হলো ‘ সিঁদুর নিওনা মুছে’ । এছাড়া টেলিফিল্ম ‘ মা আমার জান’- এর রচয়িতা ও পরিচালনাও তার দায়িত্বে ছিল।   দীর্ঘ দিন অসুস্থতার পর ...

নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( প্রথম পর্ব) ঢাকার এক সংগ্রামী যুবকের গল্প |

ছবি
নিষিদ্ধ স্বপ্ন :  প্রথম অধ্যায় ঢাকার বুকে এক সময়কার শান্ত মহল্লাটাও এখন কেমন ব্যস্ত আর কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় ভ্যান-রিকশার ঘণ্টা, হকারের হাঁকডাক, মিছিল, আর রাত নামলেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লোকজনের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে যেন বিরামহীন অস্থিরতা। সেই ভিড়ভাট্টার মাঝেই চারতলা বাড়িটির এক কোণে বাস করে সৈকত আর তার মা নিলুফা ইয়াসমিন। ছোট্ট দুই কামরার বাসা। বসার ঘরে রাখা পুরোনো কাঠের সোফার কভারটা অনেক আগেই রঙ হারিয়েছে, আর শোবার ঘরে খাটের একপাশ ভেঙে গিয়ে ইট দিয়ে ঠেকানো। সৈকত ভোরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়, রাত আট-ন’টার আগে ফেরা হয় না। মাস শেষে হাতে আসে সামান্য বেতন—যা দিয়ে ভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। ওষুধ-চিকিৎসার জন্য বাড়তি খরচের তো কোনো জায়গাই থাকে না। সকালে অফিসে পৌঁছে সৈকতকে প্রায়ই শুনতে হয় সহকর্মীদের ঠাট্টা— —“কি সৈকত সাহেব, মাসের শেষে আবার নুডলস দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন না তো?” —“হা হা, ঐ তো বেতন। পনেরো দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যায়!” সবাই হেসে ওঠে, সৈকত কেবল ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটিয়ে নীরব থাকে। ভেতরে ভেতরে যেন দগ্ধ হতে থাকে। অফিসে বস একেবারেই কঠোর। ফাইল জমে থাক...

সুখ সুদূরে – ( ১৭ম) পর্ব | বাংলা উপন্যাস। রাতের অন্ধকারে সুখবর |

ছবি
📌   মেটা   ডিসক্রিপশন  (Meta Description): সুখ   সুদূরে   ধারাবাহিক   গল্পের   ১৭তম   পর্বে ,  আরিফের   জীবনে   আসে   অপ্রত্যাশিত   সুখবর।   দারিদ্র্য ,  অনিশ্চয়তা   আর   অন্ধকার   পেরিয়ে   সে   খুঁজে   পায়   নতুন   আশার   আলো।   পড়ুন   এই   আবেগঘন   পর্বটি ।   সুখ সুদূরে : ১৭ তম পর্ব রাত এগারোটা। রকিব সাহেব সায়মনদের বাসা থেকে একটি চেয়ার এনে রাত ন ’ টা থেকে আরিফের দরজার সামনে বসে আছেন। খবরটা যেনতেন নয় , তাই চলে যেতেও পারছেন না। কিন্তু আরিফের ফেরার নাম নেই। কী যে হলো লোকটার ! নাকি ছেলের কাছে চলে গেছে ! কপালের চিন্তার রেখা ভাসিয়ে ভাবলেন — এখানে আসা বিফল হলো না তো ! অযথা বসে রইলাম না তো — বলে পেছনে তাকাতেই দেখলেন , আরিফ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। উস্কোখুস্কো , ধুলোমাখা চুল প্রথমে রকিব সাহেবের চোখে পড়ল। শীতের মধ্যে ঘাম ও তেলের চিটচিটে মুখ নিয়ে আরিফ এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল...