নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( দ্বিতীয় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। ঢাকার সকাল ও রহস্যময় ব্যাগ। |
দ্বিতীয় অধ্যায়
ঢাকার সকালটা প্রতিদিনের মতোই অস্থিরতায় ভরা। রাস্তায় যানজট, হর্নের ঝনঝনানি, মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য ঘূর্ণিপাক। সেই ভিড়ের মাঝেই আজ বাসে উঠেছে সৈকত।
আজকের যাত্রায় তার সীট পড়ল এক অপরিচিত লোকের পাশে। পরনে দামী পোশাক চালচলনে অতিরিক্ত মার্জিত আবহ। লোকটির মুখে একরকম গম্ভীর উদাসীনতা। পাশে রাখা আছে একটি চামড়ার ব্যাগ। সৈকত ভেবে নিল হয়তো ব্যবসায়ী হবে কিংবা বড় কোনো অফিসের কর্তা।
পুরো পথটাতেই দুজনের মধ্যে কোনো কথা হলো না। কেবল মাঝে মাঝে লোকটির ব্যাগের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল সৈকতের। তবে দৃষ্টি ফিরিয়ে সে নিজেকে সামলে নিল—অপরের জিনিসে কৌতূহল দেখানো তার অভ্যাস নয়।
বাস শাহবাগে এসে থামল। ভিড়ের চাপে লোকটি দ্রুত নেমে গেল। কিছুক্ষণ পরেই সৈকত টের পেল—ব্যাগটা ঠিক সেখানেই পড়ে আছে।
এক মুহূর্তের জন্য তার বুক কেঁপে উঠল। ব্যাগটা হাতে নিয়ে প্রথমেই চেষ্টা করল লোকটিকে খুঁজতে। পুরো বাসের ভেতর চোখ বোলাল, কিন্তু কোথাও দেখা গেল না। জানালা দিয়ে তাকিয়েও বুঝল—অগণিত মানুষের স্রোতে লোকটিকে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
অস্থির হয়ে ব্যাগটা কোলে নিয়ে বসে রইল সৈকত। কয়েক সেকেন্ড দ্বিধা কাটিয়ে যখন চেইনটা টানল, তখন চোখ বিস্ফোরিত হয়ে গেল। ভেতরে গাদা গাদা টাকার বান্ডিল। নতুন নোটের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল মুহূর্তের মধ্যে। সৈকতের বুকের ভেতর ধকধক শুরু হলো। এতো টাকা সে কখনো দেখেনি।
বাস মিরপুর রোডে মোড় নিতেই সিদ্ধান্ত নিল এই স্টপেজে সে দ্রুত নেমে পড়বে। তাই করল, তারপর উল্টো বাস ধরে বাসার উদ্দেশ্য রওয়ানা হলো। বাস থেকে নেমে ব্যাগটা শক্ত করে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে হাঁটতে লাগল গলির ভেতর দিয়ে ।
অসময়ে ঘরে ফেরায় নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হলো সৈকতকে।
নিজের রুমে যাওয়ার আগে মায়ের দিকে একবার তাকাল। মায়ের ক্লান্ত মুখ, চিকিৎসার অভাবে কষ্টে ভোগা শরীর—সব যেন তার চোখের সামনে তীব্র হয়ে উঠল এই মুহূর্তে। মনে হলো, আজ থেকে মা আর কোনোদিন টাকার অভাবে কষ্ট পাবেন না। কালই বাংলাদেশের সব থেকে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।
শরীরে একটা অস্থিরতা বয়ে চলেছে অবিরত।
অগণিত দিন না ধোয়ার কারণে অপরিষ্কার চাদরের বিছানার শরীর রেখে চাদরটি পালটানোর কথা খুব করে মনে হলো।
সৈকতের চোখ ঘুরন্ত পাখার দিকে। পাশে টাকা ভর্তি ব্যাগ।
"এই ব্যাগের শেষ পরিণতি কি হবে? যদি ধরা খেয়ে যাই ওরা কি আমাকে পুলিশে দেবে? কেন দেবে, আমি কি চুরি করেছি? "
নিলুফা ইয়াসমিন কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "অফিসে কি সমস্যা হয়েছে? "
- "না মা, কিছু হয়নি। "
- " শরীর খারাপ করেছে? তোকে অস্থির দেখাচ্ছে, অসময়ে ফিরে এলি!" এই প্রশ্নগুলো জবাব দিয়েই সৈকত নিজ ঘরে ঢুকেছিল।
-"রাস্তায় নেমে মনে হলো শরীরটা ভালো লাগছে না। দু'দিন রেস্ট করা দরকার, তাই ফোন করে ছুটি নিয়ে নিলাম। ভালো হয়নি? "
"হ্যাঁ, তোকে দেখে অসুস্থই লাগছে। "
রাতে দরজা বন্ধ করে একা বসে ব্যাগটা খুলল সৈকত। তার মা আবারো অবাক হলেন। সৈকত কখনো দরজা বন্ধ করে ঘুমায় না। মায়ের কিছু প্রয়োজন হয় কিনা ভেবে।
সৈকত এক এক করে নোটগুলো গুনল। সংখ্যা থামল—চল্লিশ লক্ষ টাকায়!
তার ভেতরে এক অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। চোখে ঝলসে উঠল একরকম ক্ষমতার আলো। এত টাকা, এত অঢেল অর্থ—এ যেন স্বপ্নের মতো।
টাকার স্তূপের নিচে লুকানো ছিল আরেকটি জিনিস। সৈকত যখন টেনে বের করল, দেখল—একটা ব্ল্যাংক চেক। ব্যাংক ও শাখার নাম লেখা আছে, একাউন্টের নাম ও নম্বর লিখা আছে, সাইদুল হক। তা সাবধানে ভাঁজ করে নিজের কাছে রেখে দিল সে।
তাহলে টাকা হারানো লোকটির নাম সাইদুল হক!
একবার মনে হলো—লোকটি নিশ্চয়ই এখন কষ্ট পাচ্ছে, হয়তো পাগলের মতো ব্যাগ খুঁজছে। টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। কিন্তু পরক্ষণেই আরেকটা ভাবনা মাথায় চেপে বসল—
যে মানুষ এত উদাসীনভাবে চল্লিশ লক্ষ টাকা ফেলে যেতে পারে, তার কাছে টাকার অভাব নেই। এই টাকা আসলে তার নয়, ভাগ্যই আমাকে দান করেছে ।
সৈকতের ঠোঁটে চাপা হাসি ফুটে উঠল। মনে হলো, আল্লাহ আজ তার জীবনের হিসেব পাল্টে দিয়েছেন।
পরবর্তী পর্ব আসছে শীঘ্রই।
🔎 SEO কীওয়ার্ডস
ঢাকার সকাল গল্প
রহস্যময় ব্যাগ
টাকা পাওয়া গল্প
বাংলা রহস্য গল্প
মিরপুর রোড কাহিনি
জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনা
ব্ল্যাংক চেক রহস্য
অজানা লোক ও টাকা
দ্বিতীয় অধ্যায় উপন্যাস
সৈকতের গল্প
---
📌 হ্যাশট্যাগস
#বাংলাঅপন্যাস
#ঢাকারগল্প
#রহস্যগল্প
#BanglaStory
#BanglaNovel
#SuspenseStory
#গল্পপড়ি
#BanglaLiterature

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন