নিষিদ্ধ স্বপ্ন (১২তম পর্ব) উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ।দ্বাদশ পর্ব | অনুপমার মায়ের লড়াই – সন্তানের জীবনের আশায় এক নিঃস্বার্থ সংগ্রাম





SEO কীওয়ার্ডস (Keywords):

বাংলা গল্প, অনুপমার গল্প, মা ও সন্তানের গল্প, হৃদয়স্পর্শী উপন্যাস, বাংলা উপন্যাস, সুখ সুদূরে, দুঃখের গল্প, আবেগময় গল্প, মাতৃত্বের গল্প, হাসপাতাল গল্প, মায়ের ভালোবাসা, জীবনসংগ্রাম, আশার গল্প, প্রেম ও ত্যাগ।


নিষিদ্ধ স্বপ্ন ।  দ্বাদশ পর্ব

ভোরের আলো ফুটতেই অনুপমার চোখে প্রথম পড়ল শিশুর মুখ। ঠোঁটের কোণে সেই ক্ষীণ হাসি যেন নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। সে সাবধানে সন্তানের কপালে হাত রাখল—জ্বর কিছুটা কমেছে। মনে হলো বুকের ভেতরের জমে থাকা ভয়টা খানিকটা গলে গেল।

রুবি আপা তখন পাশের বেডে বসে চুপচাপ তাকিয়ে আছেন। চোখে নিদ্রাহীন ক্লান্তি, তবুও মুখে একটুখানি তৃপ্তি।
— “অনুপমা, আল্লাহ শুনেছেন তোমার কান্না,” তিনি আস্তে বললেন।
অনুপমা মাথা নেড়ে উত্তর দিল, কিন্তু মুখে কোনো কথা এল না।

ঠিক তখনই কাচের দরজাটা ঠেলে এক নার্স ঢুকল। হাতে ওষুধের ট্রে, গলায় তাড়াহুড়ার সুর—
— “ডাক্তার বলেছে শিশুর রিপোর্টে কিছু অস্বাভাবিকতা আছে। একটু অপেক্ষা করুন, তিনি আসছেন।”

মুহূর্তে অনুপমার বুকের ভেতর কেমন ঝাঁকুনি লাগল। আবার কি কিছু হলো? চোখের সামনে হাসপাতালের সাদা দেয়ালটা যেন ধূসর হয়ে এলো। রুবি আপা চমকে উঠলেন,
— “কি বললে, বেটা? রিপোর্টে সমস্যা?”
নার্স শুধু মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডাক্তার এলেন। মুখ গম্ভীর, চোখে অনুশোচনার ছাপ।
— “আমরা কিছু নতুন সংক্রমণের লক্ষণ পেয়েছি। এটা সাধারণ নিউমোনিয়া নয়—বাচ্চার ফুসফুসে সংক্রমণটা অনেক গভীরে। এখনই আইসিইউ-তে নিতে হবে।”

অনুপমার মাথা যেন ঝনঝন করে উঠল।
— “না, না ডাক্তার, ও তো একটু আগেই হাসছিল!” সে ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলল।
ডাক্তার নরম গলায় উত্তর দিলেন,
— “আমি জানি। কিন্তু রোগ অনেক সময় শান্ত মুখের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে। এখন এক মুহূর্ত দেরি করা যাবে না।”

হাসপাতালের করিডর জুড়ে তখন শুধু হুইলারের শব্দ, অক্সিজেন টিউবের ফিসফিস, আর মেশিনের বীপ বীপ ধ্বনি। শিশুটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলো। অনুপমা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁপা হাতে দেয়াল চেপে ধরল। চোখের সামনে আইসিইউ’র লাল আলোটা জ্বলে উঠছে, নিভছে—যেন তার হৃদস্পন্দনের সাথেই উঠানামা করছে।

রুবি আপা এগিয়ে এসে তার কাঁধে হাত রাখলেন।
— “নিজেকে সামলে রাখো, অনুপমা। এখন তোমার ভেঙে পড়ার সময় না। ওর জন্য শক্ত হতে হবে।”

অনুপমা মাথা তুলে তাকাল। চোখের জল মুছে দৃঢ় গলায় বলল,
— “আমি ভাঙব না, আপা। আমি জানি, আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে যাবে না। আমি তার জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব।”

হাসপাতালের জানালার ওপাশে আবার শুরু হলো বৃষ্টি। ফোঁটা ফোঁটা জল নেমে এলো কাচ বেয়ে। বাইরে অন্ধকার, অথচ সেই অন্ধকারের মাঝেই অনুপমার চোখে জ্বলল এক অদ্ভুত আলো—মায়ের আশা, মায়ের যুদ্ধের শপথ।


SEO বর্ণনা (Meta Description):

হাসপাতালের সাদা আলোয় ভয়ের ছায়া। অনুপমার অসুস্থ সন্তানকে আইসিইউ-তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মায়ের বুক ভরা আতঙ্ক, কিন্তু তার চোখে একটাই জেদ—সন্তানকে বাঁচাতেই হবে। পড়ুন অনুপমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ভক্তি আর লড়াইয়ের হৃদয়স্পর্শী গল্পের দ্বাদশ পর্ব।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব) | বাংলা উপন্যাস | আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে ( ২য় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে (৪র্থ পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ