নিষিদ্ধ স্বপ্ন (অষ্টম পর্ব) উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণুখ। অনুপমার সংগ্রামী জীবন ও মাতৃত্বের শক্তি
Meta Description:
ঢাকার ছোট্ট স্কুলে শিক্ষক অনুপমার টিকে থাকার লড়াই, সংসারের অভাব, সন্তানের ক্ষুধা ও মাতৃত্বের শক্তির কাহিনি পড়ুন অষ্টম পর্বে।
নিষিদ্ধ স্বপ্ন। অষ্টম পর্ব
অনুপমা ঢাকা শহরের একটি ছোট্ট স্কুলে শিক্ষকতা করে । মাসে সামান্য বেতন পায়, যা দিয়ে সংসারের খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব। তবু ওই সামান্য টাকাতেই সে চেষ্টা করেন সংসারটাকে টিকিয়ে রাখতে। এছাড়া আর উপায়ও নেই।
সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার আগে সে ভোরে উঠে রান্নাঘরে যায়। হাঁড়িতে উঁকি দিয়ে দেখে—আজকের ভাতের চালটুকুই কেবল আছে, ডাল বা সবজি নেই। মনের ভেতর হাহাকার জেগে ওঠে। অনুপমার মা কিছু বলতে চাইলেও অনুপমা চুপ করে থাকেন, কারণ জানেন বললেও তো জোগাড় হবে না।
পড়ানো শেষে মধ্যদুপুরে তার স্কুল ছুটি হয়। স্কুল থেকে বেরিয়ে সামনে ছোট্ট পার্কের বেঞ্চিতে কিছুক্ষণ বসল। ছোট্ট হলেও সবুজের কমতি নেই পার্কটিতে। মাথার উপর বড়ো বড়ো গাছ। সামনে পুকুর। কিছুটা নির্জন। অনুপমা প্রায়ই এখানে বসে নিজের মনের কষ্টগুলো প্রকৃতির সাথে যেন বিনিময় করে। কিন্তু আজ তার কোনো কিছুতেই মন নেই। তার ঘাড়ের ডানপাশটা যেন ছিড়ে যাচ্ছে। মাথায় এক বোঝা দুশ্চিন্তা। মাস মাত্র দ্বিতীয়ার্ধে পড়েছে। এখনই ঘরে বাজার সদাই কিচ্ছু নেই। মুদি দোকানি অনেকগুলো টাকা পাওয়া হয়েছে। এখন গেলে যদি মুখের উপর না করে দেয়! ভাবছে অনুপামা। এভাবে আর কত দিন? একটা পুরুষ কতটা চাপ ঘাড়ে নিয়ে সংসারের বোঝা বয় আজ যেন সে কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছে। স্বামী কথা মনে পড়ল। ও তো কোনোদিন আমাকে বলেনি, সংসার চাহিদা মিটাতে তাকে এতো কষ্ট করতে হয়?
এতোটা ভার বইতে বইতে তুমি নিশ্চয় অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলে। এখন নিশ্চয় একটু বিশ্রাম পাচ্ছো!
অনুপমার বুক ফুড়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে গেল। কিছু সময়ের জন্য অনুপমা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল।
এখন সে আবার তার সংসারে ফিরেছে।
মাথায় তখন কেবল একটাই চিন্তা—বাড়িতে বাচ্চাটা হয়তো ক্ষুধায় কাঁদছে। পাশের পরিচিত মুদি দোকানে গিয়ে ছোট্ট কণ্ঠে বলল,
— “ভাই, দুই কেজি চাল আর আধা কেজি ডালটা দেন তো... টাকা পরে দেব।”
দোকানদার একটু তাকালেন, তারপর নিঃশব্দে জিনিসগুলো হাতে ধরিয়ে দিতে দিতে বললেন, "আগেও বেশ কিছু টাকা ছিল।" অনুপমার চোখ ভিজে উঠল, দেব ভাই। এর বেশি মুখে আর কোনো কথা এল না।
বাড়ি ফিরতেই কানে এলো শিশুর কান্না। মা কোলে নিয়ে সামলাচ্ছেন, কিন্তু শক্তিহীন হাত কাঁপছে। অনুপমা ছুটে গিয়ে বাচ্চাটিকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরল। শিশুটি মায়ের গায়ের গন্ধ পেয়ে আস্তে আস্তে শান্ত হলো।
মুহূর্তের মধ্যেই অনুপমার মনে হলো—সমস্ত দুঃখ, সমস্ত হতাশার মধ্যেও এই ছোট্ট মুখটাই তার বেঁচে থাকার শক্তি। মা পেছন থেকে আস্তে বললেন,
— “মা, সংসার চালানো বড় কঠিন। কিন্তু তুই হাল ছাড়িস না। তুই তোদের ভবিষ্যৎটা গড়বি।”
Focus Keywords
অনুপমার জীবন
সংগ্রামী নারী
দারিদ্র্যের কাহিনি
মাতৃত্বের শক্তি
বাংলা গল্প সিরিজ
সংসারের লড়াই
নিষিদ্ধ স্বপ্ন। অষ্টম পর্ব

Next
উত্তরমুছুন