নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( ৬ষ্ঠ পর্ব) |বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ। নিজেকে খুঁজে পাওয়া সৈকতের গল্প



 নিষিদ্ধ স্বপ্ন: ষষ্ঠ পর্ব

ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই সৈকত জানালার পাশে দাঁড়াল। আকাশটা অদ্ভুত স্বচ্ছ, যেন নতুন দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মনে মনে বলল,

—“আজ থেকেই শুরু করতে হবে। যত ছোটই হোক, একটা পদক্ষেপ দরকার।”

তারপর মনে পড়ল তার কাছে চল্লিশ লক্ষ টাকা রয়েছে। চাইলেই বড় কিছু শুরু করতে পারে।  কিন্তু কি করবে? ব্যবসা না জেনে শুনে ব্যবসায় নেমে ব্যর্থ হতে হয়।


পুরোনো ল্যাপটপটা বের করে ঝেড়ে মুছে টেবিলে রাখল। বহুদিন আগের। কিন্তু তার মনেই ছিল না সেটা এখন আর চালু হয় না। অনেক দিন আগেই তার ব্যাটারী ডাউনসহ নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওটাকে বস্তুা বন্দী করে রাখা হয়েছিল।

ভাবনায় মসগুল হয়ে পড়ল। কম্পিউটার জানা ছাড়া আর কিছুই জানে না সে।

  সফটওয়্যারের কিছু আইকন—ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট পয়েন্টের সাথে তার পুরোনো পরিচিতি।

 কিন্তু সৈকতের চোখে একরাশ দৃঢ়তা।


—“এই হাতিয়ার দিয়েই আমি আবার দাঁড়াব।”

সে অসীমের ফেলে যাওয়া ব্যগটির দিকে গেল। জ্বলজ্বল করা চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে গেল পাশের বাজারের দিকে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলল।

—“ভাই, আপনাদের দোকানের হিসাব বা ডেটা সাজানোর দরকার হলে আমি সাহায্য করতে পারি। অনেক অভিজ্ঞতা আছে।”

কিন্তু বেশিরভাগই কেবল হাসল। একজন তো সরাসরিই বলে দিল,

—“এসব দিয়ে কী হবে ভাই? হিসাব-নিকাশ তো আমরা খাতাতেই রাখি।”


অপমান আর হতাশা নিয়ে সৈকত হাঁটতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল আবারও সব পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ঠিক সেই সময় পেছন থেকে ডাক এল—

—“এই সৈকত! চিনতে পারছিস?”


পেছনে তাকিয়ে দেখল তার কলেজের বন্ধু আরিফ। দু’জনের চোখে বিস্ময়ের ঝিলিক।

আরিফ হেসে বলল,

—“শুনলাম তুই ডেটার কাজ জানিস। আমার একটা ছোট ব্যবসা আছে, হিসাব মেলাতে পারছি না। যদি তুই একটু সাহায্য করিস, আমি সত্যিই উপকৃত হব।”


সৈকতের বুক ভরে উঠল এক অদ্ভুত আনন্দে।

—“অবশ্যই করব। আমি তো এই কাজেই অভ্যস্ত।”


সন্ধ্যার দিকে প্রথম কাজের খাতা আর ডেটা নিয়ে বসে গেল সৈকত। সংখ্যার ভিড়ে তার হাত যেন ছন্দ খুঁজে পেল। প্রতিটি এন্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল—সে আবার নিজের জায়গা ফিরে পাচ্ছে।


নিলুফা ইয়াসমিন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। তারপর  এসে টেবিলের পাশে দাঁড়ালেন। চোখে অশ্রু, ঠোঁটে হাসি।

—“দেখছি তোকে আবার কাজে ব্যস্ত। বাবা, আমি জানতাম তুই হার মানবি না।”


সৈকত হালকা হাসল, চোখে ভরসার আলো।

—“মা, তুমি শুধু দোয়া করো। আমি চাই, ধীরে ধীরে নিজের একটা দুনিয়া গড়ে তুলি।”_ আচ্ছা মা, এক চাপ চা  খাওয়াতে পারো?"

নিলুফা ইয়াসমিন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বললেন," ঘরে তো চায়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। পাশের বাসা একটু চিনি, চা-পাতা নিয়ে এসে করে দিই?"

-" না, নাহ, এতো তৃষ্ণার্তও না। একটা জটিল কাজ ধরেছি, ভেবেছিলাম একটু চা পান করলে ভালো হতো। আমি নিচে নেমে খেয়ে আসব।"

- "ঘরে আরো সদাই লাগত" নিলুফা ইয়াসমিন শান্ত স্বরে বললেন। 

-"তুমি লিখে দাও আমি নিচে গেলে নিয়ে আসব"

সেই রাতে সৈকত জানালার ধারে বসে আকাশের তারাদের দিকে তাকাল।

মনে হলো—যেন অন্ধকারের ভেতর দিয়ে প্রথম আলোর রেখা দেখা যায়।

Meta Description:

ভাঙা স্বপ্ন আর হতাশার পর সৈকত খুঁজে ্পেল নিজের পথ। ল্যাপটপ, ডেটা এন্ট্রি আর এক বন্ধুর সহায়তায় শুরু হলো নতুন যাত্রা।


Focus Keywords:

সৈকতের গল্প

নতুন শুরু বাংলা গল্প

অনুপ্রেরণামূলক গল্প

জীবনের সংগ্রাম

বাংলা ছোট গল্প


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব) | বাংলা উপন্যাস | আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে ( ২য় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে (৪র্থ পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ