নিষিদ্ধ স্বপ্ন (৪র্থ পর্ব)।বাংলা উপন্যাস অফিস জীবনের সংগ্রাম | সৈকতের চাকরি হারানোর গল্প
নিষিদ্ধ স্বপ্ন : চতুর্থ পর্ব
এক সপ্তাহ পর অবশেষে অফিসে ফিরল সৈকত। অনেক ভেবেছে, অনেক ভয় করেছে—তবু আজ মনে হচ্ছে, হয়তো অযথাই সে আতঙ্কে ভুগছিল। সাইদুল হক হয়তো তার মুখ ভুলে গেছে, কিংবা হাজার মানুষের ভিড়ে গুলিয়ে ফেলছে। আসলে সৈকত নিজেও তো প্রতিদিন অফিসে কারও চেহারা অন্য কারও সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে।
মনে মনে সাহস সঞ্চার করল সে—
"চিনলেও সমস্যা নেই। আমি ধমকে উল্টো ওকেই ফাঁসিয়ে দেব। ওর টাকা আমি চুরি করেছি? সে ফেলে গেল কেন?"
কিন্তু দরজার ভেতর ঢুকতেই যেন বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। নিজের টেবিল-চেয়ারে বসে আছে অচেনা এক যুবক। কম্পিউটারে টাইপ করছে একাগ্র ভঙ্গিতে।
সৈকত ঠোঁট শক্ত করে কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
— “তুমি কে? এখানে বসে আছো?"
ছেলেটি মুখ তুলে বলল,
— “আমি নতুন জয়েন করেছি।”
— “নতুন জয়েন? তাহলে আমি বসব কোথায়?”
ছেলেটি কিছু বলল না। শুধু কাঁধ ঝাঁকাল। সৈকত বুঝল, এই প্রশ্ন তার জন্য নয়। সরাসরি বসের কক্ষে ঢুকে গেল সে।
বস কাগজপত্রে চোখ গুঁজে ছিলেন। সৈকত ঢুকতেই মাথা তুললেন।
— “কী ব্যাপার সৈকত? হঠাৎ এভাবে আসা?”
সৈকত গলা শক্ত করে বলল,
— “স্যার, আমার চেয়ারে নতুন লোক বসে আছে আমি বসব কোথায়?”
বস হেসে উঠলেন শুকনো হাসিতে।
— “তুমি তো এতদিন অনুপস্থিত ছিলে। তুমি তো ছুটিও নাও নি। কি করে জানব তুমি চাকরিটি করবে? অফিসের কাজ তো আর ফেলে রাখা যায় না। কোম্পানি তোমার দায়িত্বে অন্য কাউকে বসিয়েছে।”
— “মানে! আমি ছুটি নিইনি বলে আপনারা কি খোঁজ নিয়েছেন কেন আমি অফিসে আসিনি? আমি কি ছুটি পেতে পারি না?”
সৈকতের বদলে যাওয়া আচরণে বস অবাক হোন।
-"তুমি ছুটি চেয়েছ?"
-"ছুটি নেইনি বলে কি পাওনা নেই?"
- "সৈকত, তুমি এখন যাও। তুমি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছো। কোম্পানির নিয়ম তোমার জানা আছে নিশ্চয়?
কোম্পানি তোমাকে ফায়ার করছে। আমার কিছু করার নেই।"
সৈকত টেবিল চাপরে বলল, "নিকুচি করি কোম্পানির। না জেনে না শুনে কি করে একজন এমপ্লয়িকে ছাটাই করে?"
- "কোম্পানির কিছু জানার থাকলেও এখন আর আগ্রহ নেই, তুমি এখান বেরিয়ে যাও।
এমনিতে তোমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে।"
সৈকতের রাগে চোখ লাল হয়ে উঠল।
— “অভিযোগ মানে? কারা দিয়েছে, কী দিয়েছে? আমি কি চুরি করেছি?
আমার সাধারণ জীবন যাপন অভিযোগ হতে পারে?
বস গলা নামালেন না। দৃঢ় স্বরে বললেন—
— “দেখো সৈকত, এই ভাষায় আমার সাথে কথা বলো না। কোম্পানি তোমাকে আর রাখতে চায় না।”
ক'দিন আগে হলেও এ কথা শুনে সৈকত চুরমার হয়ে যেতো। আজ ভেঙে পড়ল না। চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইল।
— “ঠিক আছে। যেহেতু আপনারা চান না, আমি আর থাকব না। কিন্তু মনে রাখবেন, এক পথ বন্ধ হলেও আল্লাহ বেঁচে থাকার অনেক পথ খোলে রাখেন।
বস হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকালেন।
সৈকত আর কিছু বলল না। ঘুরে দাঁড়াল। সহকর্মীদের দিকে একবার তাকাল। তারপর মাথা উঁচু করে অফিস ছাড়ল।
৫ম পর্ব পড়তে চোখ রাখুন। আসছে শীঘ্রই
মেটা বর্ণনা (Meta Description):
অফিসে টিকে থাকা কতটা কঠিন হতে পারে, সেই বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে সৈকতের গল্পে। সহকর্মীর বিশ্বাসঘাতকতা, বসের অবিচার আর এক কর্মীর লড়াই—সবই আছে এই কাহিনীতে।
কীওয়ার্ড (Focus Keywords):
অফিসের গল্প
চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা
কর্পোরেট জীবনের কষ্ট
অফিসে টিকে থাকার লড়াই
সৈকতের গল্প

সৈকত রহস্যময়
উত্তরমুছুন