নিষিদ্ধ স্বপ্ন ( প্রথম পর্ব) ঢাকার এক সংগ্রামী যুবকের গল্প |
নিষিদ্ধ স্বপ্ন : প্রথম অধ্যায়
ঢাকার বুকে এক সময়কার শান্ত মহল্লাটাও এখন কেমন ব্যস্ত আর কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় ভ্যান-রিকশার ঘণ্টা, হকারের হাঁকডাক, মিছিল, আর রাত নামলেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লোকজনের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে যেন বিরামহীন অস্থিরতা।
সেই ভিড়ভাট্টার মাঝেই চারতলা বাড়িটির এক কোণে বাস করে সৈকত আর তার মা নিলুফা ইয়াসমিন। ছোট্ট দুই কামরার বাসা। বসার ঘরে রাখা পুরোনো কাঠের সোফার কভারটা অনেক আগেই রঙ হারিয়েছে, আর শোবার ঘরে খাটের একপাশ ভেঙে গিয়ে ইট দিয়ে ঠেকানো।
সৈকত ভোরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়, রাত আট-ন’টার আগে ফেরা হয় না। মাস শেষে হাতে আসে সামান্য বেতন—যা দিয়ে ভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। ওষুধ-চিকিৎসার জন্য বাড়তি খরচের তো কোনো জায়গাই থাকে না।
সকালে অফিসে পৌঁছে সৈকতকে প্রায়ই শুনতে হয় সহকর্মীদের ঠাট্টা—
—“কি সৈকত সাহেব, মাসের শেষে আবার নুডলস দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন না তো?”
—“হা হা, ঐ তো বেতন। পনেরো দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যায়!”
সবাই হেসে ওঠে, সৈকত কেবল ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ফুটিয়ে নীরব থাকে। ভেতরে ভেতরে যেন দগ্ধ হতে থাকে।
অফিসে বস একেবারেই কঠোর। ফাইল জমে থাকলে ক্ষেপে গিয়ে বলে—
—“তুমি যদি সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারো, এখানে থাকার দরকার নেই।”
এই কথাগুলো সৈকতের আত্মমর্যাদাকে প্রতিদিন কুরে কুরে খায়। কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারে না। কারণ জানে—এই চাকরি হারালে আর বাঁচার উপায় নেই।
তাই প্রতিদিন ঠিকই উঠে-পড়ে কাজ করে যায়। দুপুরে সবাই ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দেয়, ভাত-মাংস খায়, কিন্তু সৈকত সাধারণত চুপচাপ ডাল- ভাতেই কাটিয়ে দেয়। কখনও কখনও শুধু এক কাপ চা বা সিঙ্গারায়। সহকর্মীরা মজা করে বলে—
—“কি সৈকত সাহেব, ডায়েট করছেন নাকি?” ওদের ধারণা সৈকত স্বভাবজাত কৃপণ।
সৈকত হেসে উত্তর দেয়—
—“হ্যাঁ, তাই ধরো।”
কিন্তু বাস্তব হলো, পকেটে টাকার অভাব ছাড়া আর কিছুই নেই।
সেদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পর দরজা খুলতেই মা ডাকলেন—
—“সৈকত, একটু শুনবি?”
—“হ্যাঁ মা, বলো।”
—“বুকের ভেতরে কেমন যেন ব্যথা করছে। অনেকক্ষণ বসে থাকলে ঘেমে যাচ্ছি।”
সৈকত চমকে উঠে কাছে গেল। মায়ের কপালে হাত দিয়ে দেখে ঘাম চিকচিক করছে। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল—
—“তুমি কালই ডাক্তার দেখাও মা। আজ রাতেই চাইলে নিয়ে যেতে পারি।”
—“না বাবা, ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার দরকার । এই মাসে তো ভাড়া দেওয়া হয়নি এখনো।”
সৈকতের বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। চুপ করে মায়ের পাশে বসে শুধু বলল—
—“টাকার চিন্তা তুমি কোরো না মা। আমি আছি।”
কথাটা বললেও ভেতরে ভেতরে জানে—সে কিছুই করতে পারবে না। মাসের শেষ দিকে মানিব্যাগ ফাঁকা, আর হাতে অল্প কিছু টাকা। তবুও যেন আশ্বস্ত করতে চায় মাকে।
খাওয়ার পর সৈকত ছাদে উঠে দাঁড়াল। দূরের আকাশে তারা ঝিকমিক করছে। সে চেয়ে রইল অনেকক্ষণ। তার মনে হলো প্রতিটি তারাই যেন তার অপূর্ণ স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
—“একদিন আমার জীবন বদলাবে… মা কোনো কষ্ট পাবে না। আমি সংসার করব, স্বপ্ন পূরণ করব। এই অভাবের দিন শেষ হবে।”
নিজেকে এভাবেই সান্ত্বনা দেয় সৈকত।
ঢাকার রাতের বাতাসে হালকা ধুলো আর যানজটের ক্লান্তি মিশে আছে। দূরের রাস্তা থেকে গাড়ির হর্ন ভেসে আসছে। সেই শব্দের ভেতর দাঁড়িয়ে সৈকতের মনে হলো—এ শহর তার কাছ থেকে সবটুকু কেড়ে নেয়, কিন্তু কিছুই ফিরিয়ে দেয় না
তবুও তার ভেতরে বেঁচে আছে অদম্য বিশ্বাস—ভাগ্য একদিন বদলাবেই।
তিরিশটি বসন্ত কেটে গেছে ভাগ্য বদলের আশায়। ভাগ্য তার অসহায়, তাই তো আজো সে একা। মাঝে মাঝে তার বড় কষ্ট হয় এই ভেবে সত্যি কি ভাগ্য তার সহায় কখনো হবে!
📖 Meta Description
ঢাকার কোলাহলময় জীবনে সৈকত নামের এক যুবকের সংগ্রাম ও তার মায়ের অসুস্থতার গল্প। অভাব, স্বপ্ন আর অদম্য বিশ্বাসে ভর করে এগিয়ে চলার কাহিনি। পড়ুন প্রথম অধ্যায়।
🔑 Keywords
ঢাকার গল্প
সংগ্রামী যুবক
প্রথম অধ্যায় বাংলা উপন্যাস
সৈকত ও তার মা
অভাবী সংসারের গল্প
বাস্তবধর্মী বাংলা গল্প
অনুপ্রেরণামূলক জীবন কাহিনি
---
📌 Suggested Headings (H2 / H3)
H2: ঢাকার ব্যস্ত জীবনের কোলাহল
H2: সৈকতের জীবনের দৈনন্দিন সংগ্রাম
H3: অফিসের অপমান ও অবহেলা
H3: সহকর্মীদের ঠাট্টা
H2: মায়ের অসুস্থতা ও টাকার সংকট
H2: সৈকতের স্বপ্ন ও বিশ্বাস

ভালো লাগল
উত্তরমুছুন