সুখ সুদূরে – ( ১৭ম) পর্ব | বাংলা উপন্যাস। রাতের অন্ধকারে সুখবর |



📌 মেটা ডিসক্রিপশন (Meta Description):
সুখ সুদূরে ধারাবাহিক গল্পের ১৭তম পর্বেআরিফের জীবনে আসে অপ্রত্যাশিত সুখবর। দারিদ্র্যঅনিশ্চয়তা আর অন্ধকার পেরিয়ে সে খুঁজে পায় নতুন আশার আলো। পড়ুন এই আবেগঘন পর্বটি

 

সুখ সুদূরে: ১৭ তম পর্ব

রাত এগারোটা।
রকিব সাহেব সায়মনদের বাসা থেকে একটি চেয়ার এনে রাত টা থেকে আরিফের দরজার সামনে বসে আছেন। খবরটা যেনতেন নয়, তাই চলে যেতেও পারছেন না। কিন্তু আরিফের ফেরার নাম নেই। কী যে হলো লোকটার! নাকি ছেলের কাছে চলে গেছে! কপালের চিন্তার রেখা ভাসিয়ে ভাবলেনএখানে আসা বিফল হলো না তো!

অযথা বসে রইলাম না তোবলে পেছনে তাকাতেই দেখলেন, আরিফ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। উস্কোখুস্কো, ধুলোমাখা চুল প্রথমে রকিব সাহেবের চোখে পড়ল। শীতের মধ্যে ঘাম তেলের চিটচিটে মুখ নিয়ে আরিফ এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল। সারা শরীর জুড়ে ক্লান্তি। শান্ত স্বরে বলল
ভাই, আপনি!

রকিব সাহেব বললেন
আপনার কী হয়েছে বলেন তো? কোথায় ছিলেন? আমি রাত টা থেকে এখানে বসে আছি। এখন বাজে এগারোটা

আরিফ কোনো জবাব না দিয়ে তালা খুলে ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালল। রকিব সাহেব পেছন পেছন ভিতরে ঢুকলেন।
ভাই, বসেন।
আর বসার সময় নেই।
একটি মুখবন্ধ খাম এগিয়ে দিয়ে বললেন
নিন, ধরেন।
এটা কী?
এখন বলা যাবে না। খামও এখন খুলবেন না। প্রথমে আপনি ফ্রেশ হন

আরিফের হাতের দিকে তাকিয়ে বললেন
হাতে এটা কীসের প্যাকেট?
রুটি।
রাতে রুটিই খাবেন?
আরিফ মাথা ঝাঁকাল।
ঠিক আছে, ফ্রেশ হয়ে রুটি খেয়ে তারপর খাম খুলবেন। আরেকটা কথাকাল বা পরশু একটা ছেলে আসবে। আমারই দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই। খুব গরিব, কিন্তু মানুষ ভালো। রান্নাবান্নাসহ আপনার ছেলেটাকে দেখে শুনে রাখবে। ভরসা করার মতো ছেলে। নাম মাসুদ

রাত অনেক হয়েছে, আমি যাইবলে রকিব সাহেব হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। নিচে নেমে ভাবলেনভুল হয়ে গেছে। খাম খোলার পর আরিফের মুখটা দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল। বড় ভুল হলো! সবার কপালে এমন দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয় নাঝড়ের পর প্রশান্তি। কিন্তু এখন ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না। একবার চলে এসে ফিরে গিয়ে মজা দেখা ভাঁড়ামি হবে

রকিব সাহেব রিকশা ডাকলেন। রিকশায় বসে তিনি বড় সুখ অনুভব করলেন

রকিব সাহেব এতটাই তাড়াহুড়ো করলেন যে, আরিফ কিছুই বুঝতে পারল না।
মাসুদ এসে কী করবে? যার নিজের নুন আনতে পানতা ফুরায়মাসুদকে আবার কী খাওয়াবে? আবার কোন ঝামেলা!—বলে তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে ঢুকল

আরিফ ঠান্ডা পানিতে গোসল করছে। কনকনে পানি। অনেকদিন পর চুলে শ্যাম্পু করল। ঠান্ডায় শরীর ক্যাঙ্গারুর মতো কুঁকড়ে গেলেও নিজেকে হালকা লাগছে। কিন্তু মনের মধ্যে বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঘুরছে

রুটি খেতে এসে খামের দিকে চোখ পড়ল। রুটি আর খাম পাশাপাশি রাখা। তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে খামটি হাতে নিয়ে এপিঠ-ওপিঠ দেখল, তারপর আবার রেখে দিল। হতে পারে কোনো পাওনাদারের নোটিশ-ফোটিশ। কী আর হবে! হলে তো জেলই হবে। বাইরেও তো জেলের চেয়ে বেশি আরাম নেই

আরিফের কোনো কিছুতেই ভয় নেই। দ্রুত রুটি চিবিয়ে, পানি ঢকঢক করে খেয়ে চিঠিটি বালিশের পাশে রেখে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। প্রতিদিন ঘুমের সময় মুহিতকে খুব মনে পড়ে। তখন তার চোখে পানি আসে। আজও তার চোখ ভিজে উঠল

আরিফ ভাবছেএভাবে চললে কোনোদিনও মুহিতের সঙ্গে দেখা হবে না! যাদের চাকরি নেই, রোজগার নেই, তারা সন্তানকে কাছে রাখে না! নাকি আমি ইচ্ছাকরেই মুহিতকে দূরে সরিয়ে রেখেছি? মুহিত নিশ্চয়ই পথের দিকে তাকিয়ে থাকে

কাত হতে গিয়ে খামটি তার হাতে লাগল। অনেক ভেবে উল্টেপাল্টে দেখে অবশেষে খুলল। খাম খুলে হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইল। তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল

সেদিন রকিব সাহেব এখান থেকে গিয়ে কী ম্যাজিক করেছেনকে জানে!
আরিফ তার পুরোনো চাকরি ফিরে পেয়েছে। কোম্পানি না জেনে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। যেদিন থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তার আগের দিনগুলোসহ বাকি বেতনও দেওয়া হবেশর্ত, সে আবার যোগ দেবে

আরিফ চোখের পানি থামাতে পারছে না। কখন রাত পোহাবে, সে উদগ্রীব হয়ে উঠল। মুহিতকে ফোন করবে বলে সায়মনদের বাসায় ছুটে গেল

 

📢 মন্তব্য করুন

এই উপন্যাসের পরবর্তী পর্ব পেতে “সুখ-সুদূরে” ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন।

আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।


 

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব) | বাংলা উপন্যাস | আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে ( ২য় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে (৪র্থ পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ