সুখ সুদূরে – ( ১১ম) পর্ব | বাংলা উপন্যাস। আরিফের জীবনের সংকট, মুহিতের বিচ্ছিন্নতা ও পরিবারে ফিরে আসার গল্প"

 




Meta Description (মেটা বিবরণ):

আর্থিক দুঃসময়, একাকিত্ব ও পিতৃত্বের চাপে ভেঙে পড়া আরিফের গল্প—১১তম পর্বে উঠে এসেছে মুহিতের মায়ের অভাব, আরিফের আত্মসংযম এবং আফরোজা বানুর প্রস্তুতির আবেগঘন চিত্র। একটি পরিবারের ভাঙাগড়ার অন্তরালের কাহিনি।



SEO Keywords (মূল কীওয়ার্ড):

  • আরিফের জীবন সংগ্রাম ,মুহিতের মায়ের অভাব. পরিবার বিচ্ছেদ গল্প


১১ তম পর্ব

দিন পরিক্রমায় আরিফের অবস্থা জটিল হয়ে পড়ল। হাতে টাকা পয়সা নেই সে পুরোনো কথা। এখন ধারও পাচ্ছে না। নতুন করে ধার চাইতেও তার লজ্জা হয়। ক্ষুধা নিবারণের জন্য হাতের মোবাইল সেটটি বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে পৃথিবী তার হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যায় পুরোনো দিনের মত। এতে তার বিশেষ কোন ক্ষতি নেই। একমাত্র আফরোজা বানু ছাড়া আর কারো ফোন আসে না তার কাছে। মোবাইল বিক্রি করায় আফরোজা বানু পড়েছেন মহাবিপদে। নিয়মিত তিনি আরিফ আর মুহিতের সাথে কথা বলতেন। প্রতিবারের ফোনের শেষ কথা হতো মুহিতকে আমাদের এখানে দিয়ে দাও। মোবাইল বিক্রির পর সে কথা বলতে পারছেন না। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে রহমান সাহেবের সামনে এসে বললেন, কী হলো বলো তো! কদিন যাবত আরিফের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। মোবাইলটা সুইচ অফ বলছে। কিন্তু এই প্রশ্নের নিশ্চিন্ত হওয়ার মত কোন জবাব না পেয়ে তার উদ্বেগ বেড়েই চলে।

মোবাইল বিক্রির টাকায় কদিন ভালোই কেটেছে। আজ আর কোন ব্যবস্থা নেই। আরিফ নিরাশ মুখে বারান্দার চেয়ারে বসে উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে। আরিফ ভেবে তাজ্জব হয়, একটা জোয়ান সামর্থ্যবান লোক এইভাবে কুঁড়ে হয়ে ঘরে বসে অর্ধাহারে অনাহারে দিনপাত করছে। পথের সন্ধানে পথে নামতে হয়। আরিফ সেটা পারছে না। কিন্তু এইভাবে আর কতদিন! আরিফ ভেবে দেখল অতিরিক্ত মায়া মমতা কখনো কখনো জীবনে বিষাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাঁচার জন্য আরিফ এই মায়ার বাঁধন থেকে বের হতে চায়। আরিফ কি ভেবে একবার ভিতরের ঘরে তাকাল। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল সূর্য মাথার উপর থেকে হেলে পড়তে শুরু করেছে। তাতেও সে বিশেষ ব্যস্ততা দেখাল না। গোসল খাওয়া যেন এই ঘরে পরিত্যক্ত বিষয় আজ। আরিফ ঘরের ভিতর ঢুকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রগাঢ় মমতায় ছেলের দিকে তাকাতেই নিজের শৈশবকে দেখতে পেল। বুঝতে শিখার আগেই আরিফের বাবা মারা গিয়েছে। বাবার ¯েœহ কখনোই পায়নি। বাবার প্রয়োজনীয়তাও সে কখনো বোধ করেনি। অভ্যস্ততাই মানুষের স্বভাব। যে জিনিস কখনো ছিল না তার অভাববোধ না করাতে একটা অন্যরকম সুবিধা রয়েছে। আরিফ সেই সুবিধা নিয়ে বড় হয়েছে। তবে মায়ের অভাব বোধ করেছে চিরকাল। কারণ মায়ের ¯েœহের পরশ সে পেয়েছিল। মায়ের আঁচলতলে ঘুমিয়ে চিরকালের তৃষ্ণা জেগে রয়েছে। মাঝে মাঝে ¯েœহময় দিনগুলোর জন্য আরিফ কাতর হয়ে ওঠে। ঠিক একই ঘটনা ঘটতে চলেছে মুহিতের জীবনেও।

সে-ও কষ্টে কাতর হওয়া ছাড়া আর কোনদিন মায়ের  স্নেহ পাবে না।

আরিফের মা খুব সুন্দরী ছিলেন। আরিফ নাকি মায়ের রূপখানিই পেয়েছে এ কথা বলত তার নানি। মুহিতও পেয়েছে মায়ের রূপ। আফরোজ বানু প্রথম দেখাতে এমনটাই বলেছিলেন। আরিফের বয়স যখন আট তখন তার মা মারা যায়। কী অদ্ভুত মিল বাবা ছেলের! দুজনের জীবনচক্রও একই পথে চলছে। তখন নানিই ছিল আরিফের মায়ের বিকল্প। কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় নানিও মারা যান। তখন থেকেই আরিফের একাকিত্ব জীবনের সূচনা। মাঝখানে রুনা এসে একাকিত্বের পাহাড় কেটে পুষ্পপল্লবে একটি সুখের বাগান সাজিয়েছিল। কিন্তু তাতেও বিধিবাম হলো।

মুহিত গভীর মনোযোগ দিয়ে টেলিভিশন দেখছে। ক্ষুধা তৃষ্ণার বিকার তার মধ্যে সহজে দেখা যায় না। সবচেয়ে অবাক ঘটনা হলো সে সর্বপরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্খা ও অভিযোগের ক্ষমতাগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারা অবশ্যই গুণ। মুহিত ইচ্ছে করে বাবাকে সহযোগিতা করছে তা সহজে অনুমেয়। কারণ মুহিত অত্যন্ত দুরন্ত স্বভাবের ছিল। হাজারো বায়না ছিল। এখন কিছুই নেই।

আরিফ মুহিতের কাছে এসে বলল, গোসল সেরে আয়। মুহিত কোন বাক্য ব্যয় ছাড়াই গোসল সেরে এলো। কিন্তু দুপুরে গোসলের পর বাঙালি সমাজে যে রেওয়াজ প্রচলিত তার প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা এই ঘরে আজ নেই।

মুহিতকে বসিয়ে রেখে আরিফ দরজা খুলে সিঁড়ির কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সাত-পাঁচ ভেবে সায়মনদের কলিংবেল চাপল। ফের বেল চাপার আগে শাহানা বেগম ঝলমলে মুখ নিয়ে দরজা খুলে বললেন, কী হয়েছে আরিফ ভাই?

আরিফ আমতা আমতা করে বলল, একটু বাইরে গিয়েছিলাম। রান্না করে যেতে পারিনি। দুপুর হয়ে গেছে। এখন রান্না করে কখন যে মুহিতকে খেতে দিই?

শাহানা বেগম বলল, বুঝতে পেরেছি। আপনি মুহিতকে নিয়ে আসুন।

আরিফ কথা কেটে কেটে বলল, দিয়ে দিলে ভাল হতো। এই কথা বলতে আরিফের মুখ লজ্জায় অস্তগামী সূর্যের মত লাল হয়ে উঠেছিল।

শাহানা বেগম একবার আরিফের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিক আছে আমি নিয়ে আসছি। আরিফ আবার বলল, ভাবী আপনার মোবাইল ফোনটা একটু হবে?

শাহানা বেগম ভিতর থেকে মোবাইল এনে দিয়ে আবার ভিতরে চলে গেলেন। আরিফের মনে হচ্ছে বাইরে যাওয়ার কথা যে বাহানা এ কথা শাহানা বেগম বুঝতে পেরেছে। একবার তিনি সেভাবেই তাকিয়ে ছিলেন। বাইরে যাওয়ার কথা ছিল মিথ্যে এ কথা বুঝতে পারলে বিষয়টা হবে ভীষণ লজ্জার। ভদ্রমহিলা হয়তো বুঝতে পারলেও কিছু বলবে না। তাই বলে, আরিফের মুখের ঘামবিন্দু পানি হয়ে দরদর করে কানের কিনার ঘেঁষে গলা বেয়ে নিচে নেমে গেল। শাহানা বেগমের চোখে পড়লে নিশ্চয় জিজ্ঞেস করতে পারে, এই হেমন্তে কুলকুল করে ঘামছেন কেন? আরিফ টেবিলে রাখা টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে মুখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল। কিছুক্ষণের মধ্যে শাহানা বেগম খাবার নিয়ে ফিরে এলেন। খাবারের পাত্র এগিয়ে দিয়ে বললেন, এখানে দুজনের খাবার আছে।

আবার দুজনের কেন?

 মুহিত খাবে আর আপনি কী দেখে দেখে পেট ভরবেন?

আরিফ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দুই পা এগিয়ে আবার থেমে বলল, ভাবী কাল মুহিত চলে যাচ্ছে।

কোথায়?

ওর নানার বাসায়। এখন থেকে ওখানেই থাকবে বলে সামনে পা বাড়াল।

শাহানা বেগমের সমস্ত মন জুড়ে ¯েœহ রশ্মি ছড়িয়ে পড়ল। খানিকটা অপরাধবোধও। পেছন থেকে বলে উঠলেন, আমি দুঃখিত আরিফ ভাই।

আরিফ শুধু চোখ তুলে তাকাল। কিন্তু কেন দুঃখিত আরিফও জিজ্ঞেস করল না শাহানা বেগমও বিশদভাবে কিছু বলল না। শুধু মুখ চাওয়া চাওয়ি আর দুঃখ প্রকাশের মধ্যেই দুজনে থেমে আরিফ বিদায় নিল।

খাবার দেখে মুহিত জিজ্ঞেস করল, খাবার কোথা থেকে এনেছ?

খাবার কোথা থেকে এনেছি সেটা বড় বিষয় না। খেতে হবে এটাই বড় বিষয়। বাবার কন্ঠে অন্য সুর বাজতে শুনে মুহিত সামান্য অবাক হয়। একটা চেনা মুখে অচেনা সুর। এই সুরে বাবাকে কথা বলতে সে আগে কখনো শুনেনি।

আরিফ ঠুকঠাক শব্দ করে থালায় ভাত নিচ্ছে। অন্যদিন থালায় ভাত নেয়ার আগেই হাত ধুয়ে আসতে বলে আজ এখনো বলেনি, রহস্য মুহিতকে ঘিরে ধরেছে। আরিফ ভাতের থালা নিয়ে মুহিতের সামনে এসে দাঁড়াল। মুহিত হাত ধুতে যাচ্ছিল। আরিফ থামিয়ে দিয়ে বলল, আমি খাইয়ে দিচ্ছি। মানুষ রেগে ভাত মেখে মুখে তুলে খাইয়ে দেয় কিনা মুহিত জানে না। মনে মনে সেই প্রশ্ন নিয়ে হা করে মুখে ভাত নিল। অনেকদিন পর ভালো খাবার খাচ্ছে, কিন্তু ঘোরের মধ্যে থেকে স্বাদ-বিস্বাদ আলাদা করে টের পেল না। বাবার মুখের দিকে তাকাতে তার কেমন যেন ভয় হয়।

শেষ গ্রাস মুখে তুলে দিয়ে আরিফ বলল, কাল তোর নানি আসবে। তোকে নিয়ে যেতে।

মুহিতের বুকে সপাটে আঘাত লাগল। এজন্যই কী বাবা আমার সাথে এই রকম আচরণ করছে। কেন করছে? ওরা কী আমাকে জোর করে নিতে চাইছে না বাবাই পাঠিয়ে দিচ্ছে? ভাত চিবানো বন্ধ করে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।

ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে কোন লাভ নাই। আমি চাই তুমি ওখানে যাও। ওরা পর কেউ নয়। জীবন সম্পর্কে তোমাকে অনেক শিক্ষা দিয়েছি। সেই শিক্ষা কাজে লাগানোর এখনই সময়। মুহিতের ভাত গিলতে কষ্ট হয়।

আরিফের ফোন পেয়ে আফরোজা বানু সঙ্গে সঙ্গে চলে আসতে চেয়েছিলেন। আরিফ বারণ করায় আসা হলো না। তিনি উত্তেজনা নিয়ে ঘুরাফেরা করছেন। স্বপ্ন পূরনের ব্যস্ততায় বাড়িতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে যাচ্ছেন। রুনা না হোক রুনার অস্তিত¦ মুহিত রুপে ফিরে আসছে সেই খুশিতে তিনি স্থির থাকতে পারছেন না। রুনার ঘরটি মুহিতের জন্য নির্ধারিত হলো। অনেকদিন এই ঘরে কেউ আসে না। সব সময তালাদ্ধ থাকে। কাজের মেয়েকে নিয়ে পরিষ্কার করতে এসে ছবিতে চোখ পড়লে রুনার ধূলি মাখা মুখে গভীর অভিমান দেখতে পেয়ে হৃদয় সিক্ত হয়ে ওঠে। তারপর ছবিটি নামিয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছেন। এখন আবার রুনার মুখে খুশির আভা দেখতে পান। যেন হেসে হেসে বলছে সেইতো আমায় আবার কাছে নিচ্ছ। আফরোজা বানু হাসছেন। সালমা বলল, হাসছেন কেন খাল্লামা? 

আফরোজা বানু অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বললেন, কোথায় হাসছি?

এই যে হাসলেন।

তুই ভুল দেখেছিস।

আমার নতুন চোখ, আমি ভুল দেখছি না। হাসছেন হাসছেন আপনি হাসছেন।

আফরোজা বানু বলল, হাসলে হাসছি। তোর কাজ তুই কর। চিপা-চাপা ভালো করে মুছ। সঙ্গে সঙ্গেই আবার বললেন, আগে দেখে আয় তো রিপন খেলনা নিয়ে এসেছে কিনা।

সালমা বলল, রিপইন্না এইমাত্র গেল। আর এত তাড়াতাড়ি আইব?

এইমাত্র গেল! আচ্ছা তুই ভালভাবে পরিষ্কার কর আমি একটা বেড কভার নিয়ে আসছি।

রিপন ফিরে এলো সন্ধ্যার পর। এসেই আফরোজা বানুর ধমক খেল। তোকে কখন পাঠিয়েছি, আর এখন আসার সময় হলো?

গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেট যেতে হয়েছে।

এগুলো কিনতে গুলিস্থান যেতে হয়? আশেপাশে ছিল না?

এখানে দাম বেশি।

তোকে দাম নিয়ে ভাবতে বলেছি? কোনো কথাতেই আফরোজা বানু থামছেন না। রহমান সাহেব আফরোজা বানুকে থামিয়ে বললেন, হয়েছে এবার থামো। তোমার নাতি তো আর চলে আসেনি। এই তুই যা। সব সময় রহমান সাহেবের বকা থেকে আফরোজা বানু রিপনকে বাঁচায় আজ হয়েছে উল্টো।

ফুটবল, ক্রিকেটব্যাট, ক্যারামবোর্ড, সাইকেল কিনে এনেছে রিপন। খেলনা দেখে রহমান সাহেব বললেন, সারা জীবনের সব খেলনা একসাথে নিয়ে এসেছ?

আফরোজা বানু বলল, আনব না। আমার নাতি আসছে। কেন যেন আমার মনে হচ্ছে রুনাই ফিরে আসছে। বসতে বসতে বললেন, মুহিতের জন্য রুনার ঘরটি রেডি করেছি। ভালো হয়েছে না?

হুঁ, মায়ের ঘরে ছেলে থাকবে সে তো ভালো কথা-ই। কিন্তু ও কী ওই ঘরে একা একা থাকতে পারবে?

একা থাকবে কেন? দিনে ওই ঘরে থাকবে। রাতে আমার সাথে ঘুমাবে।

তা হলে ঠিক আছে।

আচ্ছা এই দিকটায় ভালো স্কুল কোনটা বলো তো? আফরোজা বানু জিজ্ঞেস করলেন রহমান সাহেবকে।

রহমান সাহেব মাইনাস ৫ পাওয়ারে চশমার স্বচ্ছ গøাসের ভিতর দিয়ে আফরোজা বানুর দিকে তাকালেন।

এভাবে তাকাচ্ছ কেন?

রহমান সাহেব চশমা খুলতে খুলতে বললেন, এত যে পরিকল্পনা করছ পারবে ধরে রাখতে? নিজের সন্তানকেই ধরে রাখতে পারলে না।

আফরোজা বানু রেগে বললেন, তোমার কাছে আছে শুধু প্যাঁচের কথা।

রহমান সাহের ইজিচেয়ারে হেলান দিলে পেট ফুটবলের মত ফুলে উঠল। আমার কথা তোমার কাছে প্যাঁচের কথা মনে হওয়ার কারণ কী? ও এখানে স্থায়ীভাবে থাকতে আসছে কিনা সে কথা তুমি জানো?

আফরোজা বানুর কপালে ভাঁজ পড়ল।

ওর বাবা আছে। আমরা জানি না আরিফ কী ভাবছে। মুহিত কী এখানে বেড়াতে আসছে না থাকতে আসছে এটাও জানি না। আর তুমি স্কুল পর্যন্ত ঠিক করে ফেলছ!

আফরোজা বানু ভুল ভাঙ্গার ভঙ্গিতে বলল, তা তুমি ঠিকই বলেছ। আচ্ছা, আরিফকে এখানে এসে থাকতে বললে কেমন হয়?

রহমান সাহেব বললেন, আমি তো সেদিনই তাকে এখানে এসে থাকতে বললাম। না এলে তো একটা বয়ষ্ক ছেলেকে জোর করতে পারি না।

আফরোজা বানু বলল, তুমি আমার সাথে মুহিতকে আনতে যাবে?

রহমান সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, নাহ তুমিই যা-ও। এখন আর দৌড়ঝাঁপ ভালো লাগে না। দম পাই না। গাড়ি নিয়ে চলে যেও। কালামকে এখুনি বলে রাখো কখন যাবে। না হয় সে আবার পড়ে পড়ে ঘুমাবে। তুমি আরেকবার বলে দেখ আরিফকে, ও যেন এখানে এসে থাকে।

আফরোজা বানু বলল, সে তো বলবই। কিন্তু আমি ভাবছি আরিফের কথা। যদি আরিফ না আসে বড় একা হয়ে যাবে।

সেজন্যই তো বললাম ও যেন এখানে এসে থাকে। রহমান সাহেব বললেন, তোমার আজ ঘুম হবে?

ইয়ার্কি করছ? হা হা হা শব্দ করে রহমান সাহেব হেসে খেলনার দিকে তাকিয়ে বললেন, রিপনকে বলো এগুলো নাতির ঘরে রেখে আসতে।

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব) | বাংলা উপন্যাস | আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে ( ২য় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে (৪র্থ পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ