ওমর সানি: এক সুপারস্টারের উত্থান ও অবসানের গল্প
ছবির উৎস : ফেইসবুক
যার নাম শুনলেই আজকাল অনেকের মনে ভেসে ওঠে একজন বিতর্কপ্রবণ, অতি কথক মানুষের ছবি—তিনি ওমর সানি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই বিদ্রুপের শিকার হন তিনি। কখনও তার অতিরঞ্জিত সংলাপ, কখনও বা বাম হাতের অতি ব্যবহার—সবই রসিকতা আর ট্রলের খোরাক হয়েছে বারবার। অভিনয় দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বহুবার।
তারপরেও, অস্বীকার করা যাবে না যে তিনি ছিলেন ৯০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সুপারস্টার।
আপনি হয়তো গাল বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলবেন—"ক্লাসে একজন ছাত্রের রোল তো ১ হবেই!" কিন্তু না, এ রোল নম্বর তিনি অর্জন করেছিলেন যুদ্ধ করে—ইলিয়াস কাঞ্চন, জসিম, রুবেল, আলমগীর, মান্না কিংবা সালমান শাহের মতো বাঘা বাঘা তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই।
তার মায়াবী চেহারা, স্টাইলিশ হেয়ার কাট আর ‘নায়কোচিত’ দর্শন তাকে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
আজকাল দর্শকরা প্রিয় নায়ক-নায়িকার নাম উচ্চারণে লজ্জা পায়। কিন্তু তখনকার দর্শক—বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা—গর্বের সাথেই বলত, "আমার প্রিয় নায়ক ওমর সানি।"
এক সময় বাংলাদেশি রোমান্টিক দর্শকরা দু'টি শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছিল: ‘সালমান-শাবনূর’ বনাম ‘ওমর সানি-মৌসুমী’।
তারা গর্বের সঙ্গে, ভালোবাসার আবেশে, অবসর সময়গুলো কাটাত এই নায়ক-নায়িকাদের ঘিরে গল্প করে। সেই গল্পের একজন থাকত ওমর সানি।
ওমর সানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অমর নায়ক সালমান শাহ। এক সময়ের বক্স অফিস যুদ্ধ অনেকটাই নির্ধারিত হতো এই দুই তারকার সুপারহিট সিনেমার পালায়। এক সিনেমা সালমান শাহ’র হিট মানেই তার ঠিক পরেই এক ওমর সানি হিট দিয়ে এগিয়ে যেত।
কিন্তু সেই যুদ্ধ হঠাৎ থেমে গেল। সালমান শাহ’র অকাল মৃত্যু এবং ওমর সানির নিজের প্রতি অবহেলা—সবকিছু মিলিয়ে হারিয়ে গেল তার সুপারস্টার ইমেজ। সময়ের সাথে সাথে হারালেন রূপ, হারালেন জৌলুস।
চার বছর পর কামব্যাক করলেন একেবারে ভিন্ন রূপে—বিশাল ফোলা দেহে আর নায়ক নয়, এবার তিনি ভিলেন। কিন্তু এই রূপান্তর দর্শক মন ছুঁতে পারেনি।
প্রথম সারির খলনায়কদের তালিকায় তাকে বড় করে দেখা হয়নি। প্রিয় নায়কের এই রূপ দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছিল এক গভীর আক্ষেপ।
আমি নিজেও ওমর সানির একজন ভক্ত ছিলাম। এখনও তার কিছু সিনেমা স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। যেমন—
চাঁদের আলো ,প্রেমগীত, মহৎ, দোলা, আত্ম অহংকার, প্রিয় তুমি, হারানো প্রেম, মুক্তির সংগ্রাম, প্রথম প্রেম, গরীবের রানী, প্রেমের অহংকার, কুলি, লাটসাহেবের মেয়ে, কে অপরাধী, মধুর মিলন এবং বাপের টাকা।
সময়ের আবর্তে তিনি হয়তো আজ বিস্মৃতির পথে, কিন্তু একসময় ‘ওমর সানি’ নামটি নিজেই ছিল একটি আবেগ, এক রোমাঞ্চ, এক সময়ের দর্শকের স্বপ্ন।
পরবর্তী পর্বে থাকবে ওমর সানির 'প্রেম গীত' সিনেমার রিভিউ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন