সুখ সুদূরে (৪র্থ পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ
📝 বর্ণনা (Meta Description): রুনার অসুস্থতা, মুহিতের শিশুমন ও আরিফের নিরুপায় মানসিক সংগ্রাম—সব মিলিয়ে হৃদয়স্পর্শী জীবনমুখী বাংলা উপন্যাস "সুখ সুদূরে"র চতুর্থ পর্ব। জানুন ব্রেইন টিউমারের নির্মম বাস্তবতায় সুখ হারিয়ে যাওয়ার গল্প।
🔖 কিওয়ার্ড (Keywords): বাংলা উপন্যাস, সুখ সুদূরে জীবনমুখী গল্প, ব্রেইন টিউমার গল্প, মায়ের অসুস্থতা, পরিবারিক গল্প, Bangla story, emotional bangla story, realistic bangla golp
সুখ সুদূরে (৪র্থ )পর্ব
হাসপাতালের লম্বা বারান্দার একপাশে বসে আছেন আরিফের সহকর্মী রকিব সাহেব। পাশে বসে তাঁর স্ত্রী তায়েবা বেগম মুহিতকে বুকে চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে দোয়া পড়ছেন। আরও কয়েকজন পরিচিত লোকজন আছেন, কিন্তু কারো মুখে কোনো শব্দ নেই। এক নিঃশব্দ শোক সবার চোখেমুখে।
আইসিইউর সামনে একটা ছোট জটলা—মাঝারি মানের ঢাকার এই হাসপাতালটিতে নিয়মিতই লোকজনের ভিড় হয় সেখানে। কিন্তু পাহারাদার বারবার এসে লোকজন সরিয়ে দেয়। যাঁরা বকশিশ দেন, তাঁদের ওপর এই নিয়ম তেমন কার্যকর হয় না। রকিব সাহেবরা বসে আছেন বারান্দার এক কোণে। মুহিত তার স্বভাববিরুদ্ধ নীরবতায় রত। মায়ের অসুখের কথা জানার পর থেকে ওর সব বায়না বন্ধ। যা দেওয়া হয় তাই খায়, যা পরানো হয় তাই পরে।
এই দুই মাস ওর ছোট্ট হাত দুটোই মায়ের সেবায় ব্যস্ত থেকেছে। কখনো পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়েছে, কখনো মাথা টিপে দিয়েছে। রুনা ফ্যাকাশে মুখে হেসে বলত,
— তুই তো বড় হয়ে গেলি।
আরিফ আদর করে বলত,
— আমার বাবাই তো!
মুহিত তখন চোখ নামিয়ে রাখত। রুনা ভেতরে ভেতরে ছটফট করত—
“আমি না থাকলে কী হবে ছেলেটার?”
প্রশ্নটা আজ তিন দিন হলো আর ওঠে না।
রুনা এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে। ফুসফুস ও কিডনি বিকল। চোখ খোলছে না। ডাক্তার আশ্বাস তো নয়ই, বরং মন শক্ত করার পরামর্শ দিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। আরিফ বিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকল সেই পথে।
দুজন লোককে দূরে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করতে দেখে ঘৃণায় গা গুলিয়ে উঠল আরিফের।
— “আমার স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, আর ওরা হাসছে?”
সে জানে, পৃথিবীতে সবাই যদি সবার জন্য কাঁদত, তাহলে হয়তো কান্নার শব্দ থামত না। একই পৃথিবীতে কেউ হাসে কেউ কাঁদে। এ এক পৃথিবীর বিচিত্র খেলা।
তবুও আজ এই নিষ্ঠুর খেলা সহ্য হয় না।
সে তাকিয়ে থাকে রংচটা কৃষ্ণচূড়ার দিকে, কিন্তু চোখে গাছ নয়, ভাসে স্মৃতির ছায়া।
রকিব সাহেব পাশে বসে কাঁধে হাত রাখেন। তাতে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই আরিফের। উপচে পড়া জলে ডুবন্ত চোখ দুটি ডুবাচ্ছে স্মৃতির সমুদ্রে। তখন
এক ফোঁটা চোখের জল নিচে পড়ে আরেক ফোঁটা অপর গাল বেয়ে
নিচে নেমে গেল।
"জীবনে
কখনো দামী কিছু ডিমান্ড করোনি। আজও সিসিইউতে শুয়ে সস্তা কিছু টিস্যু, আন্ডারপেইড, লিপজেল, লোশন
আর একটি নরম তুলতুলে বালিশ নিয়ে উর্ধ্বাকাশপানে তাকিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছ। নাকি
আমাকে শাস্তি দিচ্ছ? এত অভিমান তোমার? স্বামীদের উপর স্ত্রীদের অভিমান চিরকালের। তাই বলে এমন নিষ্ঠুর অভিমান?"
রুনা ছিল তার নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী। এখন সে শুয়ে আছে যন্ত্রপাতির জালে, নিঃসাড়, নিঃচেতন।
— “ফিরবে তো রুনা?”
ডাক্তারের মুখে ভয়ংকর শব্দ।
— “তবে কি আবার একা হয়ে যাচ্ছি?”
জীবন যেন বারবার তাকে নির্বাসনে পাঠায়।
হঠাৎ দ্রোহ জেগে ওঠে আরিফের ভেতরে—
— “কেন, কেন বার বার এই নির্মমতা আমার সাথে?”
সে মুখ ঢেকে কেঁদে ওঠে।
রকিব সাহেব শান্তভাবে বলেন,
— “আরিফ সাহব, মুহিত এখানে আছে। আপনি ভেঙে পড়লে ওকে কে সামলাবে? যত কষ্টই হোক, সন্তানের জন্য শক্ত থাকুন।”
প্রায় এক বছর আগে রুনার মাথাব্যথা শুরু হয়। প্রথমে প্যারাসিটামল কাজ দিত। মাইগ্রেনের চিকিৎসা। এরপর চোখের । তিনবার চশমা "পাল্টেও উপকার হয়নি। মাথাব্যথা তীব্র হতে থাকে।
দু’মাস আগে একদিন সকালে, আরিফ খাবারের বক্স নিয়ে এসে রুনাকে বলল,
— “নয়টা বাজে, আমাকে এক্ষুনি বের হতে হবে। তুমি মুহিতকে স্কুলে নিতে পারবে তো? না হলে জজু মিয়াকে বলে দিই।”
রুনা ক্লান্ত চোখে চুল আঁচড়ে বলল,
— “পারব। তুমি যাও।”
আরিফের মন চাইছিল না ওকে রেখে যেতে। কিন্তু না গিয়ে উপায়ও ছিল না। পরের চাকরি, নিয়ম মানতেই হয়।
সে মুহিতকে বলল,
— “মায়ের শরীর ভালো না। মায়ের কথা শুনবি। দুষ্টামি করবি না।”
মুহিত মাথা নাড়ল।
আরিফ বেরিয়ে গেলে রুনা দরজা লাগাতে গিয়ে টলে উঠল। মাথা ভারী, চোখ ঝাপসা দেখছিল। মুহিত তখন বাথরুমে। রুনা দরজার ফ্রেম ধরে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বলল,
— “নিজের কাজ নিজে করতে শেখ, মা আর কত দিন?”
— “মানে? তুমি কোথাও যাচ্ছ নাকি?” মুহিত অবাক হয়ে
বলল।
— “না, কোথায় যাব!”
এই যে বললে আর কত দিন!
রুনা হাসল। ম্লান, নিস্তেজ হাসি।
— “বড় হচ্ছিস না! যারা অন্যের উপর নির্ভর করে বাঁচে, তারা ভালো কিছু করতে পারে না।” তোর একটা মামা
আছে, তাকে দেখলে বুঝতি, তাকে দিয়েও কিছু
হবে না।
— “ মামা! আমার মামা আছে ? কখনো তো বলোনি!”
— “আছে, অন্যদিন বলব। এখন গোসল করে নে, ঠান্ডা লাগবে। মায়ের মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে।”
— “টিপে দিই?”
— বাথরুম থেকেই টিপে দিবি? আগে তো গোসল শেষ কর।
আজ মুহিত নিজেই গোসল করল। মায়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে, বাবার কথাও ভুলে গেল। যাবার সময় আরিফ বারবার বলে গিয়েছিল—
“মাকে বিরক্ত করবি না।”
কিন্তু এখন মুহিত বায়না ধরেছে—
— “আমি স্কুলে যাব না।”
রুনা প্রচণ্ড দুর্বল বোধ করছে। খাটে বসে বলল,
— “স্কুলে যাবি না, তা হলেও গোসল করলি কেন?”
— “গোসল করতে করতে মনে হলো প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার দরকার কী? সায়মন তো যাবে। ওর কাছ থেকে হোমওয়ার্ক নিয়ে নেব।”
রুনা চোখ বন্ধ করে, থেমে থেমে বলল—
— “স্কুল বন্ধ করতে হলে দরখাস্ত দিতে হয়। কারণ কী লিখবি?”
— “লিখব, আমার মায়ের শরীর ভালো ছিল না।”
মুহিতের উত্তর রুনা শুনতে পেল না। তার মাথা চক্কর দিচ্ছে। চোখ মেলে রাখার শক্তি নেই। শরীর দুলতে দুলতে সে বিছানায় ঢলে পড়ল।
আরিফ তখনো অফিসে পৌঁছায়নি। রিকশায়, রাস্তার শেষ প্রান্তে। ঠিক তখনই মোবাইলটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে রুনার নাম দেখে চোখ কুঁচকে কী যেন ভাবল। ফোন রিসিভ করতেই ভেসে এল মুহিতের গলা—
— “বাবা, মা বিছানায় পড়ে গেছে। কথা বলছে না। অনেক ডেকেছি, উঠছে না।”
— “বলিস কী! আমি এক্ষুনি আসছি।”
রিকশা ঘুরিয়ে দ্রুত ফিরে এল আরিফ। রুনাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
সন্ধ্যায়, অফিস শেষে রকিব সাহেব তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে এলেন। মিসেস রকিব এসে রুনার পাশে বসলেন, আর রকিব সাহেব পাশে চেয়ারে। বসার জায়গা না থাকায় আরিফ দাঁড়িয়ে রইল।
রুনা তখন অপেক্ষাকৃত সুস্থ। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করল। হাসপাতালে নিয়ে আসাটা তার কাছে খুব বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে।
সে বলল—
— “এমনিতেই মাথা ঘুরতে পারে না? মেয়েদের মাথা ঘোরাটা তো জন্মগত ব্যাপার।”
রকিব সাহেব বললেন—
— “হাসপাতালে নিয়ে আসা একদম ঠিক হয়েছে। মাথাব্যথা মাথাব্যথা করে বসে থাকলে চলবে না। রোগ নির্ণয় দরকার। শুনেছি অনেকদিন ধরেই মাথাব্যথায় ভুগছেন।”
তারপর আরিফের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন—
— “রিপোর্ট এসেছে?”
— “মনে হয় এসেছে। আমি গিয়ে নিয়ে আসি।”
আরিফ রিপোর্ট আনতে গেল। মুহিতও সঙ্গে গেল। রিপোর্ট দেওয়ার সময় ডেলিভারিম্যান একটু দ্বিধাভরে বলল—
— “স্যার, রিপোর্টটা এখনই ডাক্তারের দেখানো উচিত।”
আরিফের মনে খচখচ করতে লাগল। নানা ভাবনায় ভরে উঠল মন— "খারাপ কিছু তো নয়?"
রিপোর্ট নিয়ে সে ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশ করল।
ডাক্তার— কাঁচা-পাকা গোঁফ, ধবধবে ফর্সা, জ্বলজ্বলে চোখ। বয়স হলেও রূপের ঔজ্জ্বল্যে ঘাটতি নেই। মুখে একরকম ছেলেমানুষি ভাব। আগে আরিফ তাঁকে কখনো দেখেনি। রুনার রেগুলার চিকিৎসক রিপোর্ট দেখার পর রেফার করেছেন এই নিউরোলজিস্টের কাছে।
আরিফ অনুমতি চাইলে ডাক্তার হেসে বললেন—
— “আপনারাই আসবেন ভেবেই তো বসে আছি। এমনি এমনি তো কেউ আসে না।”
আরিফ দাঁড়িয়ে থাকলে বললেন—
— “চেয়ারটাও আপনারই জন্য।”
আরিফ চেয়ারে বসে রিপোর্ট এগিয়ে দিল। পাশেই বসে মুহিত।
ডাক্তার চশমা পরে রিপোর্ট দেখতে লাগলেন। কপালে এক সময় ভাঁজ পড়ল। রহস্যময় দৃষ্টিতে আরিফের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
— “পেশেন্ট আপনার কী হয়?”
ঘোরে থাকায় আরিফ প্রথমে বুঝল না। আবার জিজ্ঞেস করায় বলল—
— “আমার স্ত্রী।”
— “বাচ্চা?”
আরিফ মুহিতের দিকে দেখিয়ে বলল—
— “ও একজনই।”
ডাক্তার মুহিতের দিকে কাতর চোখে তাকালেন । তারপর প্রশ্ন করলেন—
— “আপনি কী করেন?”
— “একটা প্রাইভেট ফার্মে আছি।”
ডাক্তার বললেন—
— “সমস্যাটা অনেক আগে থেকেই ছিল, বুঝতে পারেননি?”
উত্তরের অপেক্ষা না করে বললেন—
— “বুঝার কথাও না। যদি আপনারা সব বুঝতেন, তাহলে ডাক্তারদের দরকার হতো না। নিশ্চয় ইচ্ছেমতো প্যারাসিটামল খাইয়েছেন? বাংলার সর্বজনীন ওষুধ!”
হেসে বললেন—
— “বাঙালিরা রোগ পুষে রাখতে পছন্দ করে। আপনি তো বাঙালি? না?”
আরিফের গলা শুকিয়ে গেল—
— “ডাক্তার, কী হয়েছে?”
ডাক্তার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন—
— “তেমন কিছু না। ব্রেইনে একটা টিউমার আছে।”
— “টিউমার?”
আরিফের গলা কাঁপে, কথা জড়িয়ে যায়।
— “এখন কী হবে?”
— “অপেক্ষা করবেন।”
— “কিসের?”
— “রোগী সুস্থ হয়ে কবে বাড়ি যাবে সেই অপেক্ষা।”
ডাক্তারের কথায় সাময়িক স্বস্তি পেল আরিফ। কিন্তু মনে প্রশ্ন—
— “রুনা সুস্থ হবে তো?”
— “উপরওয়ালা চাইলে নিশ্চয় হবে।”
আরিফ বলল—
— “শুনেছি ব্রেইন টিউমার মানুষকে মৃত্যু পর্ন্ত নিয়ে যায়
তার গলা কাঁপছিল—
— “রুনা... বাঁচবে তো?”
— “বাঁচতেও পারে, মরতেও পারে।”
আরিফ অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাল। ডাক্তার মৃদু হেসে বললেন—
— “রাগ করছেন? স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের কাছে মৃত্যু একটা স্বাভাবিক ঘটনা। আপনি ভাবছেন আমি কীভাবে মৃত্যু নিয়ে এমন ঠাট্টা করতে পারি? উত্তর একটাই— মৃত্যু থেকেই। পৃথিবীতে একটাই সত্য— মৃত্যু। আমরা শুধু চেষ্টা করি। যতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, ততটুকুই।”
তারপর সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললেন—
— “আপনার স্ত্রী খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন। রোগ লুকানো আমাদের কাজ নয়। রুনা এখন ফাইনাল স্টেজে। এখান থেকে রিকভার করা মিরাকল হবে।”
আরিফ কাঁপতে কাঁপতে মুহিতকে জড়িয়ে ধরল। ডাক্তার বললেন—
— “এইজন্যই সহজভাবে বলতে চেয়েছিলাম। আপনি রেগে যাচ্ছিলেন। ভাবছিলেন হয়তো কোনো পাগল ডাক্তারের কাছে এসেছেন।”
— “স্যার, কোনো চিকিৎসা নেই?”
— “চিকিৎসা আছে, সময়মতো হলে। এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
— “এখন কী করব?”
— “বাসায়ও নিয়ে যেতে পারেন, হাসপাতালে রেখেও চিকিৎসা চালাতে পারেন। তবে বিশেষ সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। সিদ্ধান্ত আপনার।”
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
— “এই রোগে থেরাপি আছে না? দিলে ভালো হবে না?”
— “থেরাপি, সার্জারি— সবই আছে। কিন্তু এই অবস্থায় সবটাই ঝুঁকিপূর্ণ।”
আরিফ হালকা হাসল। বলল—
— “যেখানে নিশ্চিত মৃত্যুর কথা বলছেন, সেখানে ঝুঁকি ভেবে কী লাভ?”
“এ কথা অবশ্য ঠিক বলেছেন। তবে চিকিৎসাটা বেশ ব্যয়বহুল,” ডাক্তার একটু থেমে বললেন, “ফলের আশা যেখানে ক্ষীণ, সেখানে ভেবে দেখা ভালো।"
চকচকে কালো জুতোর ফিতে টেনে টেনে পা গুঁজে উঠে দাঁড়ালেন তিনি।
“আপনি চাইলে রেডিওথেরাপি শুরু করতে পারেন। এই অবস্থায় সার্জারি সম্ভব নয়। যেকোনো সময় খারাপ কিছু হতে পারে। আমাকে এখন বের হতে হবে, দুঃখিত।”
মুহিত বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“বাবা, মা কি… মা কি মরে যাবে?”
আরিফ মুহিতকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে বলল,
“যা শুনেছিস, মাকে কিছু বলবি না। মা কষ্ট পাবে।”
ফিরে এসে মুহিত এক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখে এক গভীর, পলকহীন কোমলতা। পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে পড়ল।
রকিব সাহেব একটু আগ্রহ নিয়েই জিজ্ঞেস করলেন,
“রিপোর্ট এসেছে? ডাক্তার কী বলেছে?”
আরিফ নিজেকে সামলে, ভারী গলায় বলল,
“তেমন কিছু না। অনেকদিনের সমস্যা, কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।”
রকিব সাহেব একটু বিরক্ত মুখে বললেন,
“তেমন কিছুই না, তাও নাকি আবার হাসপাতালে থাকতে হবে! এ তো দেখি একেবারে ব্যবসা হয়ে গেছে ভাই। রোগীকে আটকে রেখে শুধু টাকা কামানো। কী আর বলব? যে দেশে যেমন!”
চমৎকার
উত্তরমুছুনচমৎকার
উত্তরমুছুনপড়লাম
উত্তরমুছুন