সুখ সুদূরে ( তৃতীয় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ

(Meta Description): সুখ সুদূরে তৃতীয় পর্বে শাওনের উদ্ভট আচরণ কন্ডাক্টর, জামাল মিয়া ও শর্মিকে করেছে দ্বিধান্বিত। তবুও গল্পের বাঁকে বাঁকে প্রকাশ পেয়েছে শাওনের উদার মানবিকতা। nbsp;


  🔖 কিওয়ার্ড (Keywords): বাংলা উপন্যাস, সুখ সুদূরে, পারিবারিক গল্পে এগিয়ে চলছে। 


 🌼 সুখ সুদূরে – ৩য় পর্ব 

  শর্মির সাথে দেখা করতে গেল তিনদিন পর। কফিশপে। কফিশপে ঠিক নয়, চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। এই তিনদিন সে পকেটবিহীন পাঞ্জাবি পরে টাকা-পয়সা ছাড়া সারা শহর ঘুরে বেরিয়েছে। অর্থ, সম্পদ, সংসার—এই সবকিছুরই তো এক একটি বন্ধনের হেতু। যারা বিষয়-সম্পদকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে সক্ষম হয়েছে, তারাই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহাপুরুষে পরিণত হতে পেরেছে। শাওনও অর্থ ছাড়া জীবনকে উপলব্ধি করতে শূণ্য পকেটে গাড়িতে চড়ে বসেছিল। গাড়িটি সৈনিক ক্লাবের কাছে পৌঁছালে ছিপছিপে একটি ছেলে এগিয়ে এলো, কন্ডাক্টর। হাতের মুষ্ঠিভর্তি খুচরো টাকা। মুখের অবস্থা ভালো না—বোধহয় নেশা-টেশা করে। গাল ভর্তি বড় বড় গর্ত, চোয়াল দেবে গেছে, কুচকুচে কালো ঠোঁট। 

 শাওনের কাছে এসে বলল, "স্যার ভাড়া দেন।" 

 "ভাড়া নাই।" 

কন্ডাক্টর শাওনের মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার দেখে নাক ফুলিয়ে বলল, "ভাড়া নাই মানে? ভাড়া দেন।" 

 শাওনও নাক ফুলিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল, "ভাড়া নাই মানে ভাড়া নাই।"

 পাশের সীটে বসা লোকটি বেশ মজা পাচ্ছিল। দাঁত বের করে শব্দহীন হাসছিল।
 "ফাইজলামি পাইছে," বলে কন্ডাক্টর চলে গেল। পরের স্টেশনে গাড়ি থামলে সে এসে বলল, "উঠেন।" শাওন ওঠে দাঁড়াল। "নামেন। গাড়ির থাইকা নামেন।" "আমি তো এখানে নামব না।" "আরে বেডা নাম," বলে শাওনকে ধাক্কা দিল। 

এ এক মজার দৃশ্য। সবাই মজা করে দেখছে। পেছন থেকে একজন বলল, "কী মামা, পকেটে হাত দিছে নাকি?" 

"আরে নাহ। বাটপার। এই লোকের কাছে নাকি টাকা নাই। বিশ্বাস হয়?" অনেকে শব্দ করে হাসল। লোকটি আত্মবিশ্বাস নিয়ে আবার বলল, "বাটপার! বাটপার!দেশটা বাটপারে বইরা গেছে।" শাওনকে নামিয়ে দেওয়ার সময় কন্ডাক্টর ‘বাইনটেক’ বলে গালিও দিল। 

বাইনটেক! বাইনটেক আবার কী? 

কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করবে ভেবে শাওন ফিরে দেখল, গাড়ি ছুটে চলে যাচ্ছে। এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, যারা অন্যকে বিভ্রান্ত করে সুখ পায় আবার নিজে বিভ্রান্ত হয়েও আনন্দ লাভ করে। 

 শাওন সে রকম আনন্দ নিয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছে। মাথার উপর রক্তিম বর্ণের কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে তাকিয়ে একটি গানের এক লাইন বার বার গাইছে—

 “ফাগুনে তোর কৃষ্ণচূড়া, 
 ফাগুনে তোর কৃষ্ণচূড়া...” 

 এখন কি ফাল্গুন মাস? পাশ দিয়ে যাওয়া একজন পথযাত্রীকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা ভাই, এখন কী ফাল্গুন মাস?" 
"ফাল্গুন মাস কবে আসে, কবে যায় বলতে পারব না। যতসব ধান্ধাবাজ," বলে দ্রুত চলে গেল পথযাত্রী। 

“ফাল্গুন মাস কবে আসে কবে যায় বলতে পারব না”—এরা হচ্ছে আবার বাঙালি!
 আমি নিজেও তো জানি না এটা বাংলায় কী মাস? শাওন প্রচণ্ড অবাক হয়, “আমিও বাঙালি! আমরা নিজেকেই ভালোভাবে জানি না, অথচ অপরকে জানার কত সাধনা! বাঙালি হয়ে বাংলা মাসের নাম জানি না, আর কত ঘটা করে থার্টিফার্স্ট নাইট পালন করি! হায়রে বাঙালি!” 
দ্বিতীয় পথযাত্রীকে থামিয়ে একই প্রশ্ন করল, "এখন কি ফাল্গুন মাস?" 
ভদ্রলোক হাসলেন, "বৈশাখ মাস শেষ হতে যাচ্ছে, আপনি এখনো ফাল্গুন মাসে পড়ে আছেন?" 
"এই যে কবিতায় লিখা আছে ‘ফাগুনে তোর কৃষ্ণচূড়া’।" 

ভদ্রলোক আবার হাসলেন, "আরে মশায়, কবি-সাহিত্যিকরা মনগড়া কত কথাই বলে। কৃষ্ণচূড়া ফোটার আসল সময় হলো এইটা, বৈশাখ মাস। সামনে এগুবেন?" 

"আমি আরেকটু এখানে থাকব, ফুলে ভরা গাছটি যত দেখছি ভালো লাগছে।" 
"কৃষ্ণচূড়ার প্রেমে পড়েছেন? কৃষ্ণচূড়া প্রেমে পড়ার মতোই ফুল, যদিও গন্ধ-বাস নাই। তা এই ব্যস্ত রাস্তায় না দাঁড়িয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে চলে যান। মন ভরে যাবে, গ্যারান্টি দিলাম।" 
লোকটি হেঁটে চলে যাচ্ছে, তাঁর শার্টের পেছন ঘামে চুপচুপ করছে। শাওন টের পেল তার নিজের পাঞ্জাবিও ভেজা। প্রকৃতিতে গরম হাওয়া বইছে। 
শাওনের আরো দুই লাইন গান মনে পড়ল—
 
বোশেখে তোর রুদ্রভয়াল 
কেতন উড়ায় কালবৈশাখী” 

 শাওনের চন্দ্রিমা উদ্যানে যাওয়া হলো না বা ইচ্ছেও হলো না। সামনে বিআরটিসি বাস দেখতে পেয়ে ওঠে পড়ল। এই বাসের শেষ গন্তব্য কোথায়, সে জানে না। যেখানে বাসের পথের সমাপ্তি, শাওনেরও সেখানে। 

 যথারীতি কন্ডাক্টর এসে ভাড়া চাইল। 
শাওন বলল, "ভাড়া নাই।" 
"ভাড়া নাই মানে?" "ভাড়া নাই মানে ভাড়া নাই। বাংলা বুঝো না?" 
পাশের যাত্রী বলল, "আরে ভাই, বাদ দেন তো। ভাড়া না থাকলে কোত্থেকে দিবে?" 
কন্ডাক্টর বলল, "আরে কয় কী! ভাড়া দেয় না, আবার আমারে চোখ রাঙ্গায়!! মামার বাড়ির আবদার নাকি?" শাওনের পাশের লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলল, "মামা, আপনি একবার এই লোকটার দিকে চাইয়া দেখেন। এই রকম মানুষের কাছে ভাড়া নাই, বিশ্বাস হয়? 
 
শাওনকে দেখতেও চমৎকার লাগছিল, হলুদ পাঞ্জাবি, ফর্সা মুখ, নবীন দাড়ি—এই রকম একজন মানুষের কাছে টাকা নেই!" কন্ডাক্টর মেনে নিতে পারছে না। 

 লোকটি বলল, "ধুর মিয়া! মাকালফল চিন? মাকালফলও এই রকম সুন্দর, কিন্তু ভিতরে ছাই। কিছু বুঝলেন?" মাথায় আঙুল ঘুরিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিল—মাথা খারাপ। 

কন্ডাক্টকে বলল,"যাও, এবার সামনে এগিয়ে যাও।
 ’’কইতে কইতে তারছিঁড়া মারছিঁড়া গাড়িতে ওঠে..." বলতে বলতে চলে গেল।” 
কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা নিয়ে এসে বলল, "উঠেন, মহিলা মানুষ, জায়গা দেন।" 
মহিলা শব্দটি শুনে মনে হলো, মেয়েটির পছন্দ হয়নি। চোখ তুলে কড়া করে তাকাল। 'মহিলা' বলতে সাধারণত একটু বয়স্ক নারীকে বোঝানো হয়। কিন্তু এই মেয়েটি যুবতী। 
 শাওন সহজ ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইল। চোখ পড়ল মেয়েটির দিকে। লম্বা, ফর্সা, ফুটবল আকৃতির মুখ, উত্তম স্বাস্থ্যের অধিকারিণী। টিয়া রঙের আটসাঁট জামা, বুকের ওপর ওড়না, কিন্তু তাতেও আকর্ষণ কমেনি। মোহিত হওয়া এক আদিম সংক্রমণ—চোখ দিয়ে ঢুকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই রোগের লক্ষণ অনেক যাত্রীর চোখে মুখে ফুটে উঠেছে।

 মেয়েটি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে—শাওন কখন সিট ছাড়বে। চোখে চোখ পড়তেই শাওনের লজ্জা বোধ হলো। সে সিট ছেড়ে বেরিয়ে এলো। গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্বে আরও দু’বার শাওনের চোখ মেয়েটির দিকে গেল। তখন সে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল, চুল বাতাসে উড়ছে, অনামিকা ও মধ্যমা দিয়ে বারবার চুল ঠিক করছিল। 
মতিঝিল স্টপেজে সবাই নেমে গেল, মেয়েটিও। শাওন নামেনি। খালি সিট পেয়ে আরাম করে বসে রইল। হেলপার এসে বলল, "মামা, নামবেন না?" 

শাওন জিজ্ঞেস করল, "গাড়ি আর কোথায় যাবে?" "এইহানেই শেষ। আরামবাগ হইয়া কমলাপুর ইউ-টার্ন দিয়া আবার এইহান থাইক্যা শুরু হইব।" 
"আমি সামনে নামব।" "আইচ্ছা, আপনে বহেন।" গাড়ি কমলাপুর এলো, শাওন নামল না। গাড়ি ঘুরে আবার মতিঝিল এলো। সেখানে নামল, যদিও মতিঝিলে তার কোনো কাজ নেই। উদ্দেশ্যহীন হাঁটতে লাগল।
 সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। বহুবার টিভিতে সে এই ভবন দেখেছে—শেয়ার বাজারের দরপতনের বিক্ষোভের দৃশ্য। এবার নিজের চোখে দেখছে। খানিক এগিয়ে গেল—বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ভিডিও ক্লিপে এই ভবন দেখেছে। ভাবল—এটাই কি সেই পুরোনো ভবন, নাকি নতুন? মনে হলো পুরোনোই। 
এইসব ভাবতে ভাবতেই পেটে গরগর করে ক্ষুধা জাগল। বড় রাস্তা ছেড়ে গলির প্রবেশ মুখে একটি ছোট হোটেল দেখতে পেল— হোটেলের নাম 'মায়ের দোয়া'। 
 উপরে অদক্ষ হাতে লেখা সাইনবোর্ড। দুটি টেবিলে আটটি চেয়ার, দেয়ালের পাশে একটি রেকে বড় থালায় উন্মুক্ত তরকারি, সামনে একটি টেবিল, টেবিলের ড্রয়ারে ক্যাশবক্স। একজন মাত্র খদ্দের খাচ্ছে। যিনি পরিবেশন করছেন তিনিই মালিক—জামাল মিয়া। 

জামাল মিয়া বলল, "ভাত খাইবেন ভাই?"
 "খাব। খাওয়ার কী আয়োজন?"
 "ভর্তা, ডিম, রুই মাছ, মুরগির গোস্ত আর ডাল।"

 "আর কিছু নাই? খাসি, গরুর গোস্ত?" 
"নাহ ভাই, দামের লগে পরতা পড়ে না।" 
"আচ্ছা, যা আছে তাই দেন। ভর্তাটা কিসের?"
 "আলুর।" 
এই প্রথম শাওন নিম্নমানের হোটেলে খাচ্ছে। তবু ভালো লাগছে। ক্ষুধার রাজ্যে আলুভর্তা যেন অমৃত। খাওয়া শেষে ক্যাশবক্সের কাছে এসে বলল, "প্রচণ্ড খিদে পেয়েছিলাম। পকেটে টাকা নেই—মনে ছিল না। বিল দিতে পারব না।" 

জামাল মিয়া চোখ তুলে তাকাল। মুখ হা হয়ে গেল। 
"আমি কী যাব? না বন্দী?" 
জামাল কিছুক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে মুখ তুলে বলল, "যান।" 
যাওয়ার সময় শাওন বলল, "আলুভর্তা বড়ই উপাদেয় ছিল।" আবার ফিরে এসে বলল, "আমি খেয়ে বিল দিলাম না। আপনি কিছুই বললেন না !" 
জামাল তাচ্ছিল্য করে হেসে বলল, "আপনি অভাবী মানুষ, চাইরটা ডালভাত খাইছেন, কী কই? যাগো স্বভাব নষ্ট, তাগোই কিছু কইতে পারি না।" 
"স্বভাব নষ্ট মানে বদ চরিত্র?"
 "না ভাই, তাগো চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। নেতা।" বিদ্যুতের খুঁটি দেখিয়ে বলল, "ঐ যে, ঝুলতাছে, বাপ-দাদার নাম নাই। ওরা নাকি নেতা।" 
"নেতারা বিনা পয়সায় খায়?" "খায়। তারা যা পায় তাই খায়। ইনাদের খাওয়ার বিচার নাই। ভবিষ্যৎ এমপি-মন্ত্রী।" 
শাওন হেসে বলল, "হা হা হা... এমপি-মন্ত্রী!" 
 ছেলেটিকে দেখে বলল, "এই বটবৃক্ষটি কে?" 
"আমার ছেলে। মন খারাপ। সরকারি মেডিকেলে চান্স পাইছে, ভর্তি করানোর টাকা নাই।" 

"ও মেডিকেলে চান্স পেয়েছে! আমি কি ওর সঙ্গে কথা বলতে পারি?" 
"চান্স পাইছে, ডাক্তার হয় নাই, কন।" 
শাওন ছেলেটিকে বলল, "তুমি কী একটু ওঠে আসবে?" 

 ছেলেটির চোখ-মুখে বিরক্তি ফুটে উঠল। মনে মনে ভাবছে, যে লোক খেয়ে বিল দেয় না তার সাথে কথা বলে কী লাভ! টাউট একটা। আর মেডিকেলে চান্স পাওয়া তো অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। 
— ওঠে এসো। 
ছেলেটি উঠে এল। 
শাওন বলল, "চলো, আমরা বাইরে কোথাও গিয়ে বসি।"  ছেলেটি রাজি হলো না। তাই তারা হোটেলেরই শেষের টেবিলে গিয়ে বসল। 
— তুমি ডাক্তার হতে চাও? 
ছেলেটি কিছু না বলে আরও শক্ত হয়ে বসে বলল, "অবান্তর প্রশ্ন।" 
— ঠিক বলেছ, খুবই অবান্তর কথা। ডাক্তার হতে চাও বলেই তো পরীক্ষা দিয়েছ। কোথায় কোচিং করেছিলে? 
— কোথাও না। বন্ধুদের কোচিংয়ের খাতা জোগাড় করে প্র্যাকটিস করেছি। 
— বলো কী! তুমি তো জিনিয়াস। জানো সেটা? 
— জানি। পৃথিবীর সবাই নিজেকে জিনিয়াস ভাবে। 
— এটাও ঠিক বলেছ। এবার বলো, তুমি ডাক্তার হলে কী করবে? 
— কেন আজাইরা কথা বলছেন? ভর্তি হওয়ার টাকা নাই, আমি ডাক্তার হয়ে কী করব সেটা জিজ্ঞেস করছেন!

 — পৃথিবীটা বড়ই বিচিত্র জায়গা। (একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস)। একটু পর কী ঘটবে, তুমিও জানো না, আমিও না। তবু আমরা স্বপ্ন দেখি কাল কী করব। এবার বলো কী করবে? 

— সত্যি বলব, না ঢংয়ের কথা বলব? 
— সত্যিটাই বলো। 
 — ডাক্তার হয়ে নিজের ভাগ্য বদলাব, সমাজে নিজের জায়গা তৈরি করব, টাকার পাহাড় গড়ব। 
— আর ঢংয়ের কথা কী? — শাওন চোখ তীক্ষ্ণ করে তাকাল। 

 — ঢংয়ের কথা হচ্ছে, আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করব। (সে ব্যঙ্গ করে কথাটা বলল)। এটা একটা বড় মিথ্যা কথা। 
 — তার মানে, তুমি ডাক্তার পেশাকে সেবা বলেই মানো না? — যেখানে টাকাই প্রধান উদ্দেশ্য, সেখানে সেবা বলার তো যুক্তি নেই। তাহলে তো দুনিয়ার সব কাজই সেবা। 
— অবশ্যই সব কাজই সেবা, — শাওন বলল। 
 — কিন্তু তাদের মত কেউ তো বলে না, 'আমি সেবা করব'? অথচ তাদের মতো — বলে থেমে গেল ছেলেটি। 
 তাদের মতো কী? কসাই? ডাকাত? কোনোটিই বলল না।
 কে জানে ! কোনো এক কারণে ছেলেটি ডাক্তারদের অপছন্দ করে, অথচ নিজেই ডাক্তার হতে চায়। বিষয়টি শাওনের কাছে অস্পষ্ট লাগে। 
 — টাকার বিনিময়ে কাজকে সেবা না বলে তুমি কী বলতে চাও? 
 ছেলেটি কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। মাথা নিচু করে রইল। — যে পেশার প্রতি এত ঘৃণা, তাই হতে চাও কেন? 
 ছেলেটি তখনো চুপ করে রইল। কোনো উত্তর দিল না। 

 শাওন উঠে গিয়ে জামাল মিয়ার কাছে বলল, "আপনার ছেলে মানুষ ভালো না। এই মনোভাব নিয়ে সে পৃথিবীতে চলতে পারবে না।"
 জামাল মিয়ার মুখ কালো হয়ে গেল। শাওন এবার তার নাম জানতে চাইল। — জামাল মিয়া। মুখ কালো রেখেই বলল দোকানদার। 
— ঠিক আছে, জামাল ভাই, আমি চললাম। 

 পরদিনও শাওন একই কাজ করল। ভাত খেয়ে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে জামাল মিয়ার সামনে এসে বলল, "খেয়ে ফেললাম। রান্না গতকালের চেয়ে ভালো হয়েছে। রান্নার স্বাদ পাল্টেছে, কিন্তু আমার অবস্থা একই—পকেট খালি, টাকার ব্যবস্থা হয়নি।"

 জামাল মিয়া শান্ত গলায় বলল, "ভাই, কী রাজনীতি শুরু করলেন?" 
 — রাজনীতি ! রাজ + নীতি। রাজ মানে বড় বা শ্রেষ্ঠ, আর নীতি মানে আদর্শ। তাহলে কি দাঁড়ায়, আমি একটা বড় আদর্শের কাজ করেছি?
টাকা না দিয়ে খাওয়া আদর্শের কাজের মধ্যে পড়ে? 

— জি ভাই, পড়ে। এইটাই আজকাল বড় আদর্শ। আর এইসব আদর্শবানরাই ফ্রিতে খায়। 
— তাহলে তো আমি ভালোই করলাম! ফ্রিতে খেয়ে রাজনীতিবিদ হয়ে গেলাম! বলে শাওন হা হা করে হাসল।

 হোটেলে ঢোকার সময় খেয়াল করেছিল, জামাল মিয়ার ছেলে যেখানে বসে থাকত, সেই জায়গাটা আজ খালি ছিল। এখনো খালি। তাতে কী? মানুষ তো আর গাছ না যে এক জায়গায় থাকবে। 
হোটেলের কোথাও না দেখে শাওন জিজ্ঞেস করল, — আপনার ছেলে কই? 
— বাসায়। মন খারাপ করে পড়ে আছে। কাল ভর্তির শেষ দিন। এখনো টাকার ব্যবস্থা করতে পারি নাই। 
 — আপনার ছেলে ভালো মানুষ। সত্য কথা বলে, স্পষ্টবাদী। 

— ঐটাই তো দোষ। মুখের ওপর কথা কয়। — গর্ব মিশ্রিত স্বরে বলল জামাল মিয়া। 
— আর গর্বিত হতে হবে না। বলেই শাওন পকেট থেকে একটা খাম বের করে জামাল মিয়ার হাতে দিল, — এইটা আপনার ছেলেকে দেবেন। 
 — এইটা কী? 
 — অস্ত্র। আপনার ছেলেকে আমার ভালো লেগেছে। ওকে দিয়েই কাজ হবে। — শাওন মুখ কঠিন করে বলল এবং হনহন করে বেরিয়ে গেল। 

 জামাল মিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। লোকটার মতলব কী? শাওন দূরে চলে গেলে সে অস্থির হয়ে খাম খুলে। ভিতরে টাকা আর একটা দামি কলম। টাকার সাথে জড়ানো ছিল একটা চিঠি: 

 প্রিয় স্পষ্টভাষী, 
 তোমার সত্য কথা বলার সাহস আমাকে মুগ্ধ করেছে। স্পষ্টবাদীরা আর যাই হোক, অন্যায় করতে পারে না। আমার বিশ্বাস, তুমি ডাক্তার হলে মানুষ সত্যিকারের সেবা পাবে। তুমি ডাক্তার পেশাকে কেন অপছন্দ করো, তা আমি বুঝে গেছি। তাই তোমার ডাক্তার হওয়া জরুরি। আমার এই সামান্য পাশে থাকা তোমার যাত্রাপথের সূচনায়। যখনই প্রয়োজন হবে, আমাকে মনে করো। চিঠির অপর পৃষ্ঠায় আমার নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে। ভবিষ্যতের ডাক্তারকে আগাম শুভেচ্ছা। 
মজার ব্যাপার—আমি এখনো এই ভবিষৎ ডাক্তারের নাম জানি না, ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই জানব। 

 চিঠি পড়ে জামাল মিয়ার চোখে পানি চলে এলো। 

 শাওন অন্যরকম এক তৃপ্তি নিয়ে হেঁটে হেঁটে রওনা দিল স্টেশনের দিকে।.. লক্ষ্য করল—গতকালের সেই কন্ডাক্টর, যে তাকে মাঝপথে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছিল, সে এক নিঃশ্বাসে চেঁচিয়ে চলেছে: “গুলিস্তান-শাহবাগ-বাংলামটর-ফার্মগেট-জাহাঙ্গীরগেট-মহাখালী-সৈনিক ক্লাব-বনানী!”

শাওন উৎসাহ নিয়ে গাড়িতে উঠতে গেলে কন্ডাক্টর তাকে বাধা দিল। শাওন সরল মুখে দাঁড়িয়ে থেকে যখনি বাস ছাড়ল পেছন দরজা দিয়ে উঠে পড়ল। 
 – আপনি গাড়িতে উঠলেন ক্যান? 
– কেন? আমাকে কী সরকার রাজটিকেট দিয়েছে যে গাড়িতে উঠতে পারব না? 
কথা না বাড়িয়ে কন্ডাক্টর বলল: – উঠছেন ভালা হইছে, অহন ভাড়া দেন। 
– ভাড়া! ভাড়া তো নাই। 
 কী তোমারে পাস দিছে ফ্রি'তে গাড়ি চড়ার?( কন্ডাক্টর চোখ মুখ কঠিন করে বলল) 
শাওন লক্ষ্য করল, কন্ডাক্টর ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’-তে নেমে এসেছে। গতকাল নামিয়ে দেওয়ার সময় সে "বাইনটেক" বলে গালিও দিয়েছিল। শাওন গুগলে "বাইনটেক" শব্দের অর্থ খুঁজেছে, অর্থ কিছুই পায়নি। অর্থ ছাড়া গালি দেয়ার মানে কী সে অনেক গবেষণা করেছে। 
 গালি দেওয়ার অর্থ হচ্ছে—প্রতিপক্ষকে রাগানো। 
গালির অর্থ থাকুক বা না থাকুক, যদি কেউ রাগ করে, তাহলেই গালি দেওয়া সফল। 
কিন্তু শাওন রাগ করেনি। সে এখন ধৈর্যের পরীক্ষায় আছে। 

 – এত রাগ করছেন কেন? – শাওন বলল। মুখটা কন্ডাক্টরের সামনে এনে বলল, – রাগলে আপনাকে বেআক্কেলের মতো লাগে। 
কন্ডাক্টর বহু কষ্টে নিজেকে সামলাল। শাওন জিজ্ঞেস করল – 
ভাইজান, আপনি কি বিবাহ করেছেন? 
– বিবাহ মাড়াইও না। ভাড়া দেও। 

 আবার জিজ্ঞেস করল – ভাইজানের ছেলেমেয়ে কয়জন? – আপনার মতলবটা কী? আজাইরা প্যাঁচাল পারতাছেন? ভাড়া দেন, নাইলে নাইমা পড়েন। 
 হঠাৎ কন্ডাক্টরের ভাষায় পরিবর্তন এলো। সে আবার "আপনিতে’’ ফিরে এসেছে। 

– আপনাকে ভালো লেগেছে বলেই পারিবারিক দু’চারটা কথা জিজ্ঞেস করছি। বললেন না তো, ছেলেমেয়ে কয়জন? – 

দুইজন। এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে বড়, ছেলে ছোট। হইছে? অহন ভাড়া দেন।

 – বাহ! সুখী পরিবার! তা, ছেলেমেয়ের বয়স বললেন না?

 – কী পাগলের পাল্লায় পড়লাম! আপনার ভাড়া লাগব না বলে চলে যাচ্ছিল। 
– ভাড়া লাগবে না কেন? ভাড়া নিয়ে যান।
 কন্ডাক্টর ফিরে এলো। ভাবটা এমন যেন অনিচ্ছায় এসেছে। 

শাওন পাঁচশ টাকার একটা নোট বের করে বলল: – ভাড়া রেখে বাকি টাকা দিয়ে আপনার ছেলে-মেয়েকে চকলেট কিনে দিবেন। ওরা নিশ্চয়ই এখনও বিবাহের উপযুক্ত হয়নি? আর বিবাহের উপযুক্ত হলেও চকলেট খেতে বাধা নেই। 

 টাকা পেয়ে কন্ডাক্টর জামাল মিয়ার মতো কাঁদেনি। বরং একবার ঘষে, একবার আলোতে ধরে টাকাটা পরীক্ষা করল। পরীক্ষা করে দেখে টাকা আসল। মনে মনে বলল: "লোকটা কি আসলেই পাগল?" 

 শাওন কন্ডাক্টরের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল: – আমাকে পাগল মনে হচ্ছে? 
 কন্ডাক্টর অবাক ভঙ্গিতে কপাল কুঁচকে বলল: – না… ছেলেমেয়ের বয়স মনে করলাম। – পাঁচ আর ছয়। একজনের বয়স পাঁচ, আরেকজনের ছয়। 

 – বছর বছর ঘটনা ঘটাইছেন দেখি! কন্ডাক্টর লজ্জা পেলেও, টাকা পেয়ে খুব খুশি। এই টাকাটা তার খুব প্রয়োজন ছিল। আগামীকাল তার ছেলের জন্মদিন। ছেলে বায়না ধরেছে—এবার কেক কেটে জন্মদিন পালন করতে হবে। কন্ডাক্টর ঠিক করেছিল, যেভাবেই হোক একটা কেক নিয়ে বাসায় ফিরবে। এই টাকা পেয়ে প্রথমেই ছেলের কথাই মনে পড়ল। ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হাসি নিয়ে সে ফিরে গেল। ________________________________________ 

 শাওন আজও বাসে উঠেছে ভাড়া ছাড়া। কন্ডাক্টর ভাড়া চাইতেই সে এমন ভাব করল, যেন মানিব্যাগ ভুলে বাসায় রেখে এসেছে। তবে কন্ডাক্টরেরা অসহায় মানুষের ভাড়ার জন্য জোর করে না। 

 শাওন এখন বসে আছে উদ্ভট চেহারায়, উস্কোখুস্কো চুল আর ময়লা হলুদ পাঞ্জাবি পরে। এই পাঞ্জাবিটা সে একটানা কয়েকদিন ধরে পরেছে। আচরণে কৃত্রিম রহস্য। 
শর্মি বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। কিছুই বুঝতে পারছে না—এই ক'দিনে কী এমন ঘটল? এক মাসের বেশি সময় হয়ে গেছে তাদের দেখা হয়নি। শেষ দেখা হয়েছিল শাওনের জন্মদিনে, তখন শর্মি একটা বই গিফট দিয়ে বিদায় নিয়েছিল। সব ঠিকঠাকই ছিল তখন। পরীক্ষার কারণে আর দেখা হয়নি, ফোনে মাঝেমধ্যে কথা হতো। তখনো শাওন কিছুটা উল্টাপাল্টা বকতো, শর্মি বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে দিত। এখন সামনে বসে থাকা শাওনকে দেখে সে হতবাক। – 

এইসবের মানে কী, শাওন? 
– কীসের মানে?
 – তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
 – হলুদ পাঞ্জাবিতে আমাকে মানায়নি? জবাবের অপেক্ষা না করে পুণরায় বলল,– হলুদের মানে কী জানো? 
 – হলুদের মানে জেনে কী হবে? 
 – পৃথিবীতে অনেক কিছুই মানুষের জানার প্রয়োজন নেই, তবু মানুষ জানে। শেখার তো শেষ নেই। – একজন মৃত্যুপথযাত্রী হাসপাতালে শুয়ে আর কী শিখবে বলো? শিখেই বা কী লাভ? 
শাওনের কথা শুনে শর্মি বিরক্ত, কিছু বলে না। – ভাবছো তো, শিখে আসলেই কী লাভ? – লাভ অবশ্যই আছে। যদি সে বেঁচে ফিরে আসে, তার অভিজ্ঞতা আশেপাশের মানুষদের কাছে বিলিয়ে বেড়াবে। কারো কাজে লাগতেও পারে! – তাই  হলুদের মানে জেনে রাখাও উচিত। কখন প্রয়োজন পড়ে, কে জানে? 

 – বলো, হলুদের মানে কী? 
– হলুদ হচ্ছে ‘অনুভবের রং’। অনুভব বুঝ? শর্মি তাকায়। শাওন বলে: চীনারা অবশ্য হলুদকে মহত্ত্বের প্রতীক মনে করে। জ্ঞানী জাতি, নিশ্চয়ই এমনিই বলেনি। হলুদের একটা খারাপ দিকও আছে—যদিও সেটা হলুদের দোষ না। – দেখো না, "হলুদ সাংবাদিকতা" শব্দটা! দুষ্কর্ম অন্যরা করে, অপবাদ হলুদের ঘাড়ে! – আরো জানো? হলুদ সব তরকারিতে লাগে। 

 – তুমি তো দেখি হলুদ বিশেষজ্ঞ! কিন্তু তোমার হলুদ পাঞ্জাবির দিকে তাকালে আমার তীব্র বিরক্তি লাগে।

 – জানি। হলুদ অনুভবের রং বলেই টের পাচ্ছি তুমি বিরক্ত হচ্ছো। – মানুষ কারণ-অকারণে বিরক্ত হয়। কাক, ময়লা খেয়ে পরিবেশ ঠিক রাখে, তবু কাকের ডাক মানুষকে বিরক্ত করে। আর কোকিল, অপদার্থ পাখি—নিজে বাসা বানাতে পারে না, ডিম পাড়ে অন্যের বাসায়, তার ডাক শুনে মানুষ মুগ্ধ! – মানুষের স্বভাব বোঝা বড়ই কঠিন। 
 এ সময় ওয়েটার এসে বলল: – স্যার, যার যা প্রাপ্য! আমি নিজেও কাকের ডাকে বিরক্ত হই। দাঁড় কাক ডাকলেই মানুষ মারা যায়—এমনটাই শুনি। আর একটা বদ স্বভাবও তো আছে—যখন তখন "ছাইড়া দেয়"। 

 – ছাইড়া দেয় মানে কী? – শর্মি জিজ্ঞেস করল। 
– অপরিপক্ক জ্ঞানের কথা – উত্তর দিল শাওন। 
 শর্মি বলল– তুমি এইসব কী শুরু করেছ? কী হয়েছে তোমার? তুমি তো এমন ছিলে না। অপ্রযোজনে কথা বলতে না। – 

আল্লাহ পাক মুখ দিয়েছেন কথা বলার জন্যই। এবার তুমি বলো—"বাইনটেক" শব্দের মানে কী? – বাইনটেক! এমন শব্দ কখনো শুনিনি। 
 – ওয়েটার, তুমি জানো?
 – অর্থ জানি না, শুধু জানি এটা একটা গালি।
 – তুমি কাউকে এভাবে গালি দিয়েছ? 
 ওয়েটার মিটিমিটি হাসে। 
 - মানে দিয়েছ! – মানে দিয়েছ! অর্থ জানো না, তবু গালি দিয়েছ! মানুষ কত নিরর্থক কাজ করে! 
ওয়েটার লজ্জিত মুখে দাঁড়িয়ে থাকে। 
 শাওন মেনু শিটের দিকে তাকিয়ে বলল: – তোমাদের এখানে দই, চিড়া, মুড়ি আছে? 
– এক্সকিউজ মি, স্যার? আমি বুঝিনি। 
– দই, চিড়া, মুড়ি—আছে? 
– জি না।
 – রাখো না কেন? 
– এটা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট স্যার।
 – কফিও কী চাইনিজ? 
– জানি না স্যার।
 – কফি তো ইয়েমেনের পানীয়। তা হলে ইয়েমেনি পানীয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে থাকতে পারে, বাংলাদেশের খাবার থাকবে না কেন? 
– স্যার, উত্তরটা আমার জানা নেই। 

 – চাইনিজ রেস্টুরেন্টে তুমি দই-চিড়া খুঁজছো? – শর্মি হতবাক। – তোমার মাথা ঠিক আছে? – বাংলাদেশি খাবার তো সবার বাসাতেই হয়! 
 শাওন হাসে। – বলো তো এখন বাংলা মাস কী? 
– জানি না।
 – ইংরেজিতে? – মে মাস। 
 – এজন্যই দই চিড়া খেতে চেয়েছি। তুমি কখনো খেয়েছ?

 শাওনের কথাবার্তা, চোখ, মুখভঙ্গি দেখে শর্মি অবাক হয়ে ভাবছে—এই শাওনকে সে কোথায় দেখেছে? বা পড়েছে? অচেনা এক পরিচিতর মতো লাগছে।
📢 মন্তব্য করুন

এই উপন্যাসের পরবর্তী পর্ব পেতে “সুখ-সুদূরে” ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন।

আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব) | বাংলা উপন্যাস | আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে ( ২য় পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ

সুখ সুদূরে (৪র্থ পর্ব) বাংলা উপন্যাস। আশিষ কৃষ্ণমুখ