সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব) | বাংলা উপন্যাস | আশিষ কৃষ্ণমুখ
🏷️ লেবেল (Labels):
বাংলা উপন্যাস, সুখ সুদূরে, আশিষ কৃষ্ণমুখ, আবেগঘন গল্প, প্রেম, বাস্তবতা ও বিয়োগ ব্যাথার পারিবারিক উপন্যাস,
---
📄 পোস্টের শুরুতে:
“সুখ সুদূরে” একটি আবেগঘন বাংলা উপন্যাস যেখানে পুরোনো বাড়ি, পারিবারিক সম্পর্ক, সন্তানকে হারানোর কষ্ট অনুভব মিলিয়ে এক গভীর মানবিক গল্প তৈরি হয়েছে।
---
উপন্যাসঃ সুখ সুদূরে (প্রথম পর্ব)
✍️ লেখক: আশিষ কৃষ্ণমুখ
বাড়ির নাম ‘আপন ভুবন’।
গেইটের বাইরে দেয়ালে সাদা পাথরের শ্লেটে খচিত ‘আপন ভুবন’ লেখাটি না দেখলে যেন চোখ এড়িয়ে যায়। পুরনো হওয়ায় লেখার কালো রঙ অনেকটাই খসে গেছে। বাইরের দেয়ালের চেহারাও তেমনই বিবর্ণ। বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় এমন রংচটা নামফলক আর ধূসর দেয়াল যেন সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই বাড়ি প্রায় চল্লিশ বছরের পুরোনো। তবে ভিতরের অবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে পেইন্ট, টাইলস, কার্পেট—সবই আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে। এই বাড়ির কর্তা রহমান সাহেব। তার ব্যবসায়িক জীবনের প্রথম দিকে তৈরি করা এই বাড়ি। এখন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে অবসর জীবন যাপন করছেন তিনি। ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা আছে, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে রয়েছে দুটি গার্মেন্টসও। ইচ্ছা করলেই বাড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্য পাল্টে দিতে পারেন, তবু করেন না।
তার এক অদ্ভুত বিশ্বাস—বাড়ি যত পুরোনো হয়, তার আভিজাত্য ততই বাড়ে।
দোতলা এই বাড়ির সামনে বিস্তৃত উঠানে সবুজ ঘাসের গালিচা। উঠান পেরিয়ে ভবনের দরজা থেকে গেট পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা। চারপাশে রকমারি ফুলের গাছ, আর সামনের দেয়াল ঘেঁষে পাতাবাহারের গাছ অর্ধেক দেয়াল ঢেকে রেখেছে। বাড়িতে কাজের লোক থাকলেও গাছের পরিচর্যা নিজেই করেন রহমান সাহেব। ধবধবে সাদা গেঞ্জি আর সাদা ট্রাউজার পরে প্রতিদিন ঝর্ণা দিয়ে গাছে পানি দেন তিনি।
একপাশে বারান্দায় বসে আছেন মিসেস রহমান—আফরোজা বানু। হাতে একটি ভাঁজে ভাঁজে ছেঁড়া চিঠি, সেটি স্কচটেপ দিয়ে জোড়া লাগানো। চোখের পানিতে চিঠির অক্ষরগুলো কোথাও কোথাও ঝাপসা হয়ে গেছে। এ চিঠিটি সহস্রাধিকবার পড়া হয়েছে। গত নয় বছরে হাজারবার পড়া এ চিঠি আজ আবার তুলে নিয়েছেন। বিকেলে ঘুম ভাঙার পর হঠাৎ রুনার কথা খুব মনে পড়ছিল। ঘুমের ঘোরে এক মায়াবী, নিস্তেজ মুখ বারবার ভেসে উঠছে, যেটা চেনা নয়, কিন্তু বারবার রুনার মুখের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছেন।
চিঠিটি লিখেছে তার মেয়ে রুনা—বিদেশ থেকে নয়, ঘর ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে টেবিলের উপর রেখে গেছে। আফরোজা বানু তা এখনো আগলে রেখেছেন। মন খারাপ হলেই পড়েন। এখন চোখের কোণে জল জমে রয়েছে , আর প্রতিবার শেষ করার পর একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।
---
📩 রুনার চিঠি:
বাবা, মা,
আমি চলে যাচ্ছি। রক্তের বন্ধন ছিন্ন করে নয়—রক্তের বন্ধন ছিন্ন হয় না, এটা পরীক্ষিত সত্য। তোমরা চাইলে আমি ফিরে আসতে পারি, কিন্তু একা নয়—আরিফকে সঙ্গে নিয়ে।
তোমরা আরিফকে পছন্দ করো না। অথচ আরিফ এমন কেউ নয়, যাকে অপছন্দ করা উচিত। তাকে ভুলে যেতে বলেছিলে, কিন্তু তা পারিনি। কাউকে চট করে ভুলে যেতে রপ্ত করতে হয়। না হয় ভুলে যাওয়া যায় না, আর ভুলে যাওয়ার কারণও ছিল না।
আরিফ খুব ভালো ছেলে। যদি তাকে ভুলে যেতাম, তাহলে ওর মনে কষ্ট দিতাম। আর ভালো মানুষকে কষ্ট দিলে খোদা সহ্য করেন না। হয়তো এ অপরাধেই এমন কারো সঙ্গে আমার বিয়ে হতো, যার মতো খারাপ মানুষ পৃথিবীতে আর নেই। তখন তোমরাই আফসোস করে বলতে, "আরিফই ভালো ছিল।" তাতে আমার কী লাভ হতো?
আরিফ নারী জাতিকে নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করত আজীবন, আর মেয়ে হয়ে আমি তা মেনে নিতে পারিনি। জানি, এসব কথা শুনে তোমাদের ভালো লাগছে না।
থাক, সে কথা । আমরা আজই বিয়ে করব। কোথায় উঠব জানি না, কোনো প্রস্তুতিও নেই। তাই তোমাদের ঠিকানা দিতে পারছি না। কিন্তু ভালোবাসা থাকলে খুঁজে বের করা অসম্ভব কিছু নয়।
তোমরা যদি না চাও, তাহলে আর কোনোদিন তোমাদের সামনে আসব না।
তবে একটি সুখবর দিই—আরিফ একটি চাকরি পেয়েছে। এখন অন্তত অভাব অনটনের দুশ্চিন্তা রইলো না।
ভালো থেকো। নিজেদের যত্ন নিও।
—তোমাদের রুনা
---
চিঠিতে খুব বেশি আবেগ নেই, তবু আফরোজা বানুর কষ্ট হয়। কান্না আসে। মানুষ এখন আবেগে ডুবে থাকে না, বাস্তবতাকেই প্রাধান্য দেয়। সুখ-দুঃখ জীবনের অংশ—এটা সবাই জেনে গেছে। আগেকার দিনে মানুষ হয়তো তা জানত না।
আধুনিক ছেলেমেয়েরা আবেগঘন যুগে ফিরতে চায় না। কিন্তু আফরোজা বানু মা। সন্তানের জন্য মা কখনোই নিরাবেগ হতে পারেন না। সম্ভবত কোনো মা-বাবাই পারেন না।
রহমান সাহেব সিঁড়িতে পানির ঝর্ণাটি রেখে আফরোজা বানুর দিকে এগিয়ে এলেন। তাঁর সামনে চিঠিটি পড়তে আফরোজা বানুর কিছুটা অস্বস্তি লাগে। তাই তিনি চিঠিটি ভাঁজ করে নিচে রাখলেন।
---
📢 মন্তব্য করুন
এই উপন্যাসের পরবর্তী পর্ব পেতে “সুখ-সুদূরে” ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন।
আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
চমৎকার শুরু
উত্তরমুছুনশুরুটা পড়ে ভালোই লাগছে। সবটা পড়ার প্রতীক্ষা রইলাম
উত্তরমুছুননিয়মিত পড়তে চাই
উত্তরমুছুননতুন পর্ব কবে আসবে?
উত্তরমুছুনএমন একটা বাড়ি আমার স্বপ্ন
উত্তরমুছুনশুরুটা ভালো লাগছে
উত্তরমুছুনValo laglo
উত্তরমুছুনঅসাধারণ, চালিয়ে যাও বন্ধু
উত্তরমুছুনআমি আগেই পড়েছি। খুব ভালো লেগেছে
উত্তরমুছুন